Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Thursday, March 26, 2020

করোনার কারণে হজ বাতিল ঘোষণা করেছে বলে যে গুজব ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়

করোনার কারণে হজ বাতিল ঘোষণা করেছে বলে যে গুজব ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়


স্টাফ রিপোর্ট।। করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি সরকার এ বছরের হজ বাতিল ঘোষণা করেছে বলে যে গুজব ছড়িয়েছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত নওয়াফ বিন সাআদ আল-মালিকি।

উর্দু নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হজ বাতিল করার সিদ্ধান্ত যদি নেয়া হয়, তাহলে সময় মতো হজযাত্রীদের করণীয় কী হবে, সে সম্পর্কেও আগাম জানিয়ে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বেকার পাকিস্তানিদের কথা উল্লেখ করে নওয়াফ বিন সাআদ বলেন, যাদের ইকামা বাতিল করা হয়নি এবং যাদের আইনিভাবে বহির্গমনের কাগজপত্র রয়েছে, তাদের ফ্লাইট পুনরায় চালু করা হবে এবং তারা সৌদি আরব ফিরে যেতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, সৌদি পাসপোর্ট অধিদফতর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা ফ্লাইট স্থগিতের জন্য ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার ব্যবধানে সৌদি আরবে পৌঁছাতে পারেননি, তাদের সবাইকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের প্রস্থান এবং ফেরতের ভিসা বাড়ানো হবে।

একইভাবে, যারা ভিসা বা ওমরাহ করতে সৌদি আরব গিয়েছিলেন কিন্তু নিজেদের দেশে ফিরে আসতে পারেননি, তাদের কোনো ধরনের জরিমানা করা হবে না এবং ভিসা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে না।

নওয়াফ বিন সাআদ মালিক বলেন, সৌদি নাগরিক, বাসিন্দা ও ওমরাহ যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়া ও আসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি সৌদি সরকার করোনাভাইরাসের কারণে ওমরাহ ও পর্যটন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। এরপর ৪ মার্চ একই কারণে ওমরার জন্য অর্থ গ্রহণও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে সৌদি গেজেট কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব অস্থায়ীভাবে ওমরাহ পালন স্থগিত করেছে এবং সৌদি নাগরিকসহ অস্থায়ী বাসিন্দাদের মসজিদে গমন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

টুইটে বলা হয়েছে করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে সৌদি সরকার এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, করোনাভাইরাস নিরীক্ষণের জন্য কমিটির সুপারিশ অনুসারে নাগরিক ও বাসিন্দাদের ওমরাহর অর্থ গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে সৌদি আরবও রয়েছে। যেখানে ইতিমধ্যে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আক্রান্ত রয়েছে প্রায় ৭০০ এরও বেশি।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ আবদুল আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরি বিভাগে বিদেশি রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছিল এবং সোমবার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মঙ্গলবার একদিনে ২০৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬৭ জনে পৌঁছেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল তালাল আল-শালাব জানিয়েছেন, কারফিউর প্রথম দিনেই সারা দেশে তার বাস্তবায়ন চলছিল।
সৌদি বাদশাহ সালমান করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দুদিন আগে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সারা দেশে ২১ দিনের জন্য কারফিউ ঘোষণা করেছেন।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডন অবলম্বনে- মুহাম্মদ বিন ওয়াহিদ

Wednesday, March 25, 2020

সবাইকে একসাথে দোয়ার করা আহবান জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম

সবাইকে একসাথে দোয়ার করা আহবান জানিয়েছেন মুশফিকুর রহিম


স্টাফ রিপোর্ট।। করোনাভাইরাস গজব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজ নিজ স্থান থেকে সচেতন থাকার পাশাপাশি, মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে দোয়া করার কথা বেশ কয়েকবার বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় মুশফিকুর রহীম, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজারা।

এবার সারাদেশের মানুষকে একযোগে দোয়া করার জন্য অনুরোধ করলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম।
শুধু সারাদেশ নয়, সারাবিশ্বের মানুষই এসময়ে নামাজের পর দোয়া করবে বলে জানান মুশফিক।

তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অনুসারীদেরকেও এ সময়ে দোয়াপ্রার্থনার অনুরোধ জানিয়েছেন মুশফিক। এ সময়ের তিনটি দোয়াও উল্লেখ করে দিয়েছেন তিনি।

নিজের ছেলে শাহরুজ রহীম মায়ানের সঙ্গে নামাজরত একটি ছবি সম্বলিত পোস্টে মুশফিক লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। আগামীকাল (বুধবার) বাংলাদেশ সময় ঠিক বিকেল ৫টায় কোভিড-১৯ ভাইরাস থেকে সকলকে নিরাপদ রাখার জন্য সারাবিশ্বের সকল মুসলিমরা নামাজের পর দোয়া পড়বে।

পাকিস্তানে বিকেল ৪টায়, আরব আমিরাত, বাকু এবং ওমানে দুপুর ৩টায়, সৌদি এবং কাতারে দুপুর ২টা, কানাডায় সকাল ৭টায়, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রাত ১০টায় এবং বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় এ সময় অনুযায়ী।

এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। আপনি যেখানেই থাকুন, দয়া করে নিম্নোক্ত দোয়াগুলো পড়ুন। কারণ সারাবিশ্বের সকল মুসলিমরা পড়বে।
একশবার হাসবুনআল্লাহু ওয়ানাইমাল ওয়াকিল একশবার লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ্জালেমিন এবং একশবার যেকোনো দুরুদ শরীফ।
পবিত্র মক্কা শরীফ ও  মদিনা শরীফে জামায়াত চালু রয়েছে

পবিত্র মক্কা শরীফ ও মদিনা শরীফে জামায়াত চালু রয়েছে


স্টাফ রিপোর্ট।। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় ২১ দিনের কারফিউ ঘোষণা করেছে সৌদি সরকার।

সোমবার সন্ধ্যায় থেকে শুরু হওয়া এই কারফিউ চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত।
এর আগে গত ১৭ মার্চ থেকে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী বাদে সৌদি আরবের সব মসজিদে নামাজ পড়া সীমিত করা হয়েছে। খবর আলজাজিরার
তবে এ দুই পবিত্র মসজিদের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে সৌদি সরকার। যে কারণে এ দুই পবিত্র মসজিদে স্বল্প পরিসরে নামাজের জামাআত আদায় করা হচ্ছে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে কাবায় অল্প কয়েকজন মুসল্লির অংশগ্রহণে নামাজের দৃশ্য। তাদের অনেকের মাস্ক পরিহিত ছিলেন। নামাজের কাতারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকেও দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় দেখা গেছে মসজিদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও খাদেমদের।

এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়েছে মসজিদে নববীতে গত ২০ মার্চে জামাআতে নামাজ পড়ার একটি ভিডিও। এখানে মসজিদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও খাদেমদের দেখা গেছে।

মূলত চলমান করোনা পরিস্থিতিতে এ দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই জামাআতে পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ জারি রেখেছেন।
গত ১৮ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এমনটাই হয়ে আসছে। মসজিদ দুটির নামাজের খবরাখবর ও কে কে ইমামতি করছেন সব ছবি ও ভিডিওসহ টুইট করছেন হারামাইন অফিসিয়াল টুইটার পেজ।

সেখানে জানানো হয়েছে ২২-২৮ মার্চ পর্যন্ত দুই পবিত্র মসজিদে যারা ইমামতি করছেন-
মক্কার মসজিদে হারামে ফজর ও আসরের ইমামতি করছেন শায়খ বন্দর বিন বালিলাহ। মাগরিব ও ইশায় ইমামতি করছেন শায়খ মাহের এবং জোহর পড়াচ্ছেন শায়শ আব্দুল্লাহ জুহানি।

এবং মসজিদে নববিতে ফজর পড়াচ্ছেন শায়খ হামেদ, জোহর পড়াচ্ছেন শায়খ কাসিম, আসর পড়াচ্ছেন প্রবীণ ইমাম শায়খ হুজাইফি, মাগরিব পড়াচ্ছেন শায়খ আহমদ হুজাইফি আর ইশা পড়াচ্ছেন শায়খ তুবাইতি।

Friday, March 20, 2020

মসজিদ বন্ধের পরিস্থিতি হয়নি, করোনা আল্লাহ পাকের গজব কাফেরদের প্রতিঃ বায়তুল মোকারমের ইমাম

মসজিদ বন্ধের পরিস্থিতি হয়নি, করোনা আল্লাহ পাকের গজব কাফেরদের প্রতিঃ বায়তুল মোকারমের ইমাম


স্টাফ রিপোর্ট।। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে দেশের মসজিদ বন্ধের পরিস্থিতি এখনো হয়নি। আগামী সপ্তাহেই বুঝা যাবে করোনাভাইরাস মহামারী কোন দিকে যাচ্ছে। যদি পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায় সরকার আলেম ওলামাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন। স্বল্প সময়েই করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। ইসলামের মৌলিক শিক্ষা হচ্ছে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা। রোগ জীবানু থেকে মুক্ত থাকতে সর্তকতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মসজিদে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে কেউ অসুস্থ্য হলে বা যাদের হাঁচি কাঁশি আছে তাদের মসজিদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। তারা নিজ নিজ অবস্থানেই ইবাদত বন্দেগী করবেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতী মিজানুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররমে ইনকিলাবের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

মুফতী মিজানুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস আল্লাহপাকের একটি গজব। তিনি বলেন, আধুনিক যুগেও কুফর ও নাস্তিকদের আল্লাহপাক বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিঁনি কী করতে পারেন। আল্লাহপাকের এই গজবে গোটা বিশ্ব আজ ধমকে দাঁড়িয়েছে। এই গজব থেকে মুক্তি পেতে মহান আল্লাহপাকের কাছে ক্ষমা এবং সাহায্য চাইতে হবে।

তিনি বলেন, আল্লাহপাকের রহমত থেকে আমাদের নিরাশ হলে চলবে না। চিকিৎসকের পরামর্শও দ্বীন ও শরীয়তেরই অংশ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সতর্কমূলক ব্যবস্থাগুলোকে গ্রহণ করার ওপরগুরুত্বারোপ করেন মুফতী মিজানুর রহমান। তিনি আজ শুক্রবার তিন লক্ষাধিক মসজিদের ইমাম ও খতীবগণকে করোনাভাইরাস সর্ম্পকে সর্তকতামূলক বক্তব্য প্রদান এবং বাংলাদেশসহ বিশ্ববাসিকে এই মহামারী থেকে হেফাজত রাখতে আল্লাহপাকের কাছে দোয়া করার অনুরোধ জানান।

মুফতী মিজানুর রহমান করোনাভাইরাস সারা দুনিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে আমরাও চিন্তিত । তার পরেও এ মহামারী থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, রোগের কোনো নিজস্ব ক্ষমতা নেই। সমস্ত ক্ষমতার মালিক আল্লাহ। আল্লাহর নৈকট্য লাভে সবাইকে চেষ্টা করতে হবে।

Monday, March 16, 2020

করোনার জন্য মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে

করোনার জন্য মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল আকসা মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে


আন্তর্জাতীক ডেস্ক।। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে মুসলমানদের প্রথম কিবলাহ ও তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রোববার জেরুজালেমের ওয়াকফ কমিটি এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সাবধানতার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ওয়াকফ কর্তৃপক্ষের বরাতে ডেইলি সাবাহ জানিয়েছে। তবে মসজিদের বাইরের অংশ ইবাদতের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

মসজিদের পরিচালক ওমর কিসওয়ানি বলেন, ইসলামিক ওয়াকফ কমিটি করোনাভাইরাস বিস্তার রোধে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত আল আকসা মসজিদের অভ্যন্তরে নামাজের স্থানগুলো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে মসজিদের প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করা যাবে বলে ওয়াকফ কমিটি থেকে জানানো হয়।

ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নাগরিকদের ঘরে বসে প্রার্থনার আহ্বান জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ কমানো এবং যতটা সম্ভব জনসমাগম কমিয়ে আনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের আলোকে আমরা ফিলিস্তিনের জনগণকে ঘরে বসে প্রার্থনা করার আহ্বান জানাচ্ছি।

Wednesday, March 4, 2020

যে কোন অবস্থাতে অলী আল্লাহর আদর্শ মেনে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবেঃ বাহাউদ্দীন

যে কোন অবস্থাতে অলী আল্লাহর আদর্শ মেনে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবেঃ বাহাউদ্দীন


স্টাফ রিপোর্ট।। মুসলিম জাতির ঐতিহাসিক দিক উল্লেখ করে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেছেন, সারা পৃথিবীর যেখানে মুসলমানদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সবই সুফি দরবেশ, ওলি আউলিয়াকেরামের কারণে। ভারতে খাজা মইনউদ্দীন চিশতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি, নিজাম উদ্দিন আউলিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি, বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি এবং  ৩৬০ আউলিয়াসহ আরও অনেক ওলি আউলিয়াকেরামের বদৌলতে উপমহাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সর্বত্রই ছিল মুসলমানদের আধিপত্য। শুধুমাত্র ভারতেই মুসলমানরা প্রায় আটশো বছর শাসন করেছেন। সম্প্রতি ভারতে মুসলমানদের ওপর যেটা হচ্ছে এটা রায়ট নয়, রায়ট হচ্ছে দুপক্ষের মধ্যে মারামারি। কিন্তু ভারতে একটি পক্ষই সব করছে। সারা দুনিয়া বলছে, এটি গণহত্যা। স্বয়ং মমতা বন্দোপাধ্যায় বলেছে সেখানে মুসলমানদের ওপর গণহারে হত্যাযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। ইনকিলাব সম্পাদক বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে, এদেশের মানুষ ভালো আছে। তবে যেকোন পরিস্থিতিতে এদেশের মুসলমানদের ঐক্যের জায়গায় থাকতে হবে। ওলী আউলিয়াদের হাতে গড়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতাই আমাদের স্বাধীনতার প্রধান নিয়ামক শক্তি। তাদের প্রচারিত শান্তিময় ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি এ দেশের রক্ষাকবচ। যত মতপার্থক্যই থাকুক আল্লাহু আকবারধ্বনি আমাদের এক কাতারে এনে দেয়। ইসলাম, দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের ক্ষেত্রে আমাদের আওয়াজ একটাই হবে- আর এটা হচ্ছে আল্লাহু আকবার। আরেকটি বিষয় হলো , আমাদেরকে পীর আউলিয়াদের ত্বরিকা মেনে জীবন পরিচালনা করতে হবে। কোনো বিচ্ছিন্ন বা উগ্র মতবাদ গ্রহণ করা চলবে না।

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মৌকারা দরবার শরীফের ইসালে সাওয়াব মাহফিলের শেষদিন সোমবার সন্ধ্যায় ধর্মীয় আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এসব কথা বলেন। ধর্মীয় আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন মৌকারা দরবারের পীর সাহেব ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কুমিল্লার সভাপতি আমীরুস সালেকীন আলহাজ্ব শাহ মুহাম্মদ নেছার উদ্দীন ওয়ালিউল্লাহী।

এদেশে ইসলামী চিন্তা চেতনার প্রসার ঘটছে উল্লেখ করে জমিয়ত সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, পীর-মাশায়েখ অধ্যাত্মিক ব্যক্তিদের দোয়া ও মেহনতের মাধ্যমেই এদেশে ইসলাম এসেছে। বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। ওলি আউলিয়াকেরামের দোয়ার বরকতে এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা এদেশের মুসলমানরা অনেক সুখে শান্তিতে আছি। আজকে বিভিন্ন ইসলামি দেশগুলোতে ফেৎনা ফাসাদের কারণে এতো সম্পদ থাকা সত্ত্বেও শান্তি নেই। এখনো ওলি আউলিয়া, পীর মাশায়েখদের ওপর আমাদের শ্রদ্ধাবোধ, সম্মান অটুট থাকা এবং ওনাদের নির্দেশিত পথ অনুসরণ করার কারণে আজকে এদেশে ইসলামি চিন্তা চেতনার প্রসার ঘটছে।
বাংলাদেশে আলেমদের সামাজিক নেতৃত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে ইনকিলাব সম্পাদক আরও বলেন, আলেমগণ ওয়াজ-নসিহতের মাধ্যমে মানুষকে মঙ্গলের পথে, কল্যাণের পথে পরিচালনা করছেন। দেশের ওলামা-মাশায়েখগণ আলোকিত মানুষ তৈরি করছেন বলেই সমাজ দেশ উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ সাইয়েদ আহসান উল্লাহ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন মহাসচিব প্রিন্সিপাল মাওলানা শাব্বির আহমদ মোমতাজী, জিএমএস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গোলাম মোস্তফা, জিনিয়া টেক্সটাইলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবুল বাশার, নাঙ্গলকোট উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ সামসুদ্দিন কালু, ভাইস চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ও লাকসাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী।

ধর্মীয় আলোচনায় সভাপতির বয়ানে মৌকারা পীর ছাহেব আমিরুস সালেকিন শাহ মুহাম্মদ নেছারউদ্দীন ওয়ালিউল্লাহি বলেন, এ উপমহাদেশে আউলিয়ায়ে কেরামরাই মানবিক ও আধ্যাত্মিক খেদমতের মাধ্যমে ইসলামের মুলমন্ত্র মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য অর্জনের জন্য নেক আমল ও বিশুদ্ধ আকীদার বিকল্প নেই। জীবনের প্রতিটি স্তরে সুন্নিয়াতের আদর্শকে লালন করতে হবে। ত্বরিকা চর্চা করতে হবে। ত্বরিকতের মাধ্যমে ওলি-আউলিয়াগণের ফয়েজ ও বরকত অর্জন সম্ভব। মৌকারা পীর সাহেব দৈনিক ইনকিলাব দেশের উন্নয়ন ও ইসলামি তাহজিব তমদ্দুন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রাণপুরুষ আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান রহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সুযোগ্য উত্তরসুরী সংগঠনের বর্তমান সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীনের নেতৃত্বে আজকে মাদরাসা শিক্ষকরা মর্যাদার জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। মাদরাসা শিক্ষকদের বৃহত্তম অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষকরাই এদেশে ইসলামী ভাবধারা সমুন্নত রেখে চলেছেন। মৌকারা দরবারের বর্তমান পীর সাহেব শাহ মুহাম্মদ নেছারউদ্দীন ওয়ালিউল্লাহি আরও বলেন, এ দরবারের মরহুম পীর সাহেব ছিলেন ইসলামী জগতের আধ্যাত্মিক সাধক। তিনি মানুষকে হেদায়েতের পথে, সুন্নিয়াতের পথে আসার দিশা দিয়েছিলেন। আর মৌকারা দারুসসুন্নাত নেছারিয়া কামিল মাদরাসা আল্লাহর একজন অলির হাতেগড়া প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান থেকে দ্বীনি ও সঠিক নৈতিক শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে সৎ আদর্শবান মানুষ।
মাহফিলের শেষদিনে বয়ান করেন- মৌকারা দরবারে ছোট হুজুর কেবলা আলহাজ মাওলানা আবদুল হালিম, প্রধান ওয়ায়েজ অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুর রাজ্জাক (ঢাকা), মাওলানা নেছার আহম্দে চাঁদপুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (ফেনি), উপাধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা এইচ এম আনোয়ার মোল্লা (ফরিদগঞ্জ), মাওলানা জাকির হোসেন সিদ্দিকী (লাকসাম)। উপস্থিত ছিলেন নূর মোহাম্মদপুর দরবারের পীর সাহেব অধ্যক্ষ মাওলানা আবু তাহের মোহাম্মদ সালেহ উদ্দীন, ফান্দাউক দরবারের পীর সাহেব মাওলানা সৈয়দ সালেহ আহাম্মদ মামুন, বরিশাল মির্জা এনায়েতুর রহমান কমপ্লেক্সের অধ্যক্ষ মির্জা মাওলানা সায়েমুর রহমান বেগ, শায়খে ফান্দাউক দরবার শরীফ সৈয়দ মাওলানা মঈনউদ্দীন আল হোসাইনি। মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও কলামিষ্ট আলহাজ মাওলানা শাহ মুহাম্মদ মাসউদ ও ওয়ালিয়া কমপ্লেক্সের ডিজি আলহাজ জাহেদুল মাওলা চৌধুরী হেলাল।

মাহফিলের শেষ দিন সোমবার দেশের দক্ষিণ-পূর্ব জনপদের অন্যতম পূণ্যভূমি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মৌকারা দরবারে লাখো ভক্ত আশেকান মুরিদানের অভূতপূর্ব সম্মিলনের দৃশ্য ফুটে উঠে। আধ্যাত্মিক সাধক শাহসুফি আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ অলিউল্যাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহি স্মরণে দুইদিন ব্যাপী ইসালে সওয়াব মাহফিলের শেষ দিন আলেম ওলামা, পীর মাশায়েখ আর মুসল্লিয়ানদের মিলনমেলা ও জিকিরের আওয়াজে সৃষ্টি হয় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশ। মঙ্গলবার সকালে মৌকারা পীর সাহেব আমীরুস সালেকীন শাহ মুহাম্মদ নেছার উদ্দীন ওয়ালিউল্লাহী মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতিত মুসলমানদের হেফাজত, দেশের সমৃদ্ধি, অগ্রগতি এবং রোগবালাই, মহামারি থেকে হেফাজতের কামনা করে আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ জানিয়ে আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।

Monday, February 24, 2020

আবারও হজের ব্যয় বাড়ছে, সাধারণ যাত্রী থেকে হাজীদের গুণতে হয় তিনগুন ভাড়া

আবারও হজের ব্যয় বাড়ছে, সাধারণ যাত্রী থেকে হাজীদের গুণতে হয় তিনগুন ভাড়া


স্টাফ রিপোর্ট।। হজের ব্যয় বাড়ছে এবারও। জনপ্রতি সাড়ে ৬ হাজার টাকা বাড়িয়ে এ বছরের হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রথম তিন ধরনের প্যাকেজ প্রস্তাব করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত হজ প্যাকেজ-১-এ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা গত বছর ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা। প্যাকেজ-২-এ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, গেল বছর ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। আর নতুন প্যাকেজ-৩-এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

গতবারের তুলনায় এ বছর ১০ হাজার টাকা বিমান ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। বিমান ভাড়ার এ ঝাঁজ পুষিয়ে নিতে এবার হজযাত্রীদের খাবার, বাড়ি ভাড়া ও ট্রেন ভাড়ার টাকা কমানো হয়েছে। প্যাকেজ-৩ এর আওতাভুক্ত হজযাত্রীদের হেরেম শরিফ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে রাখা হতে পারে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানিয়েছে, বাড়তি ব্যয়ের হজ প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভা বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি ২০২০-এর খসড়াও উপস্থাপন করা হতে পারে। বরাবরই নির্দেশনা থাকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের হজ প্যাকেজের দাম সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্যাকেজগুলোর টাকার কম হতে পারবে না। সূত্রমতে, এবারও তেমন নির্দেশনা থাকবে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ধর্ম সচিব মো. নুরুল ইসলাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে ৩টি হজ প্যাকেজের খসড়া চূড়ান্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠিয়েছি। আশা করি, কাল (আজ) মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। বিমান ভাড়া ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধির কারণে কিছু কিছু খাতের ব্যয় আমাদের কমাতে হয়েছে। এর সবই চূড়ান্ত করবে মন্ত্রিসভা।

সূত্রমতে, গত বছর প্যাকেজ-১ এর মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৯৬২ টাকা। এবার তা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার টাকা। অর্থাৎ এ খাতে খরচ কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৯৬৮ টাকা। মিনা-আরাফা ও আরাফা-মুজদালিফা-জামারা ট্রেন ভাড়া বাবদ খরচ ধরা হয়েছে ৬ হাজার টাকা।

গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৮১২ টাকা। এছাড়া হাজীদের খাবার বাবদ খরচ ২ হাজার টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে গত বছরের বিমান ভাড়া ১ লাখ ২৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার করা হয়েছে। এছাড়া হজ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে ইন্স্যুরেন্স ফি নির্ধারণ করেছে সৌদি সরকার।

এ প্রসঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) এবিএম আমিন উল্লাহ নূরী যুগান্তরকে বলেন, ‘বিমান ভাড়া বৃদ্ধি, সৌদি সরকার হজ ফি বাড়ানোয় এবং ইন্স্যুরেন্স ফি প্রবর্তন করায় এবার হাজীদের খাবার, বাড়ি ও ট্রেন ভাড়ার টাকা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। হজ ফি বাড়ানো হয়েছে ৩১৫ রিয়াল বা ৭ হাজার ২৪৫ টাকা (এক রিয়াল সমান ২৩ টাকা ধরে), ইন্স্যুরেন্স ফি ১০৪ রিয়াল বা ২ হাজার ৩৯২ টাকা। এ বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করতে কিছু ক্ষেত্রে আমাদের ব্যয় কমাতে হয়েছে।

ছয় বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হজের ব্যয় বাড়ছে প্রতিবছরই। এ সময়ে জনপ্রতি হজের ব্যয় বেড়েছে ৭০ হাজার ২৫৫ টাকা। প্রতিবছর গড়ে বেড়েছে ১১ হাজার ৭০৯ টাকা। গত বছর প্যাকেজ-১ ছিল ৪ লাখ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা, এ বছর বাড়ানো হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা। প্যাকেজ-২ গত বছর ছিল ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, এবার বেড়েছে ১৬ হাজার টাকা।

২০১৮ সালে প্যকেজ-১ ছিল ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৯২৯ টাকা। প্যাকেজ-২-এ ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫৫ টাকা। এর আগে ২০১৭ সালে প্যাকেজ-১ ছিল ৩ লাখ ৮১ হাজার ৫০৮ টাকা, ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৮ টাকা এবং ২০১৫ সালে ছিল ৩ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৫ টাকা।

যা চলতি বছরের চেয়ে ৭০ হাজার ২৫৫ টাকা কম। ২০১৭ সালে প্যাকেজ-২ ছিল ৩ লাখ ৩১ হাজার ২৪০ টাকা, ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৪ হাজার ৯০৩ টাকা এবং ২০১৫ সালে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০৬ টাকা, যা চলতি বছরের তুলনায় ৬৩ হাজার ৭৯৪ টাকা কম।
এ বছরই প্রথম তুলনামূলক স্বল্পমূল্যের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। এ প্রসঙ্গে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম যুগান্তরকে বলেন, হজ প্যাকেজ-৩ নামের এ প্যাকেজের মূল্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এ প্যাকেজের আওতায় যাওয়া হজযাত্রীদের মক্কা-মদিনায় হেরেম শরিফ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরের বাড়িতে রাখা হবে। সেখানকার বাড়ি ভাড়া কিছুটা কম। এরই মধ্যে মক্কা-মদিনার আজিজিয়া, নাক্কাসা, রুসাইফা, কুদা ও সৌকিয়ায় বাড়ি দেখা হয়েছে। সম্ভবত সেখানকার বাড়িতেই এ প্যাকেজের হজযাত্রীদের রাখা হবে।

এ বছর বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। গত বছর ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। সূত্রমতে, ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা রুটে সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকায় যাতায়াত করতে পারেন। বছরের অন্য সময় ওমরায় বিমান ভাড়া সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া সারা বছরই প্রবাসী শ্রমিক ও অন্যান্য যাত্রী ৪০ হাজার টাকায় ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিটার্ন টিকিটে আসা-যাওয়া করছেন। অথচ হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। একই বিমানে পাশের আসনে বসা সাধারণ যাত্রীর তুলনায় একজন হজযাত্রীকে প্রায় তিনগুণ বা এক লাখ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।

হজের সময় হজ ফ্লাইট ছাড়াও নিয়মিত ফ্লাইটে হজযাত্রী পরিবহন করা হয়। বিমান ভাড়া নিয়ে হজযাত্রী ও হাবের ক্ষোভ রয়েছে। হাব নেতাদের অভিযোগ, তিনগুণ ভাড়া দিয়েও হজযাত্রীরা বাড়তি কোনো সুবিধা পান না। বরং কখনো ফ্লাইট বাতিল, আবার কখনও দীর্ঘ ট্রানজিটে দুর্ভোগে পড়েন। আবার ফ্লাইট বিলম্বের কারণে হজযাত্রীদের দিনের পর দিন হজক্যাম্পে ইহরাম বেঁধে অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে হজ হতে পারে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মক্কায় করা সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ২০২০ সালের হজ চুক্তি অনুযায়ী এবার হজে যেতে পারবেন ১ লাখ ৩৭ হাজার বাংলাদেশি। এর মধ্যে ১৭ হাজার ১৯৮ জন যাবেন সরকারি ব্যবস্থাপনায়, ১ লাখ ১০ হাজার হজযাত্রী বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন। মোট হাজযাত্রীর অর্ধেক বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাকি অর্ধেক সৌদিয়া এয়ারলাইন্স পরিবহন করবে।