মোহাম্মদ শাকিল
উদ্দিনঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদীর কাছে বাংলাদেশের গনতন্ত্র সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার প্রয়োগে
ভারতের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং সহায়তা চেয়ে উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। মঙ্গলবার
বাংলাদেশ সময় মাঝ রাতে আমেরিকা থেকে এক ভিডিও বার্তায় এ আহবান জানান বিচারপতি
সিনহা। তিনি
মনে করেন বাংলাদেশে যদি গনতন্ত্র ব্যাহত হয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে
প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতও ক্ষতির শিকার হবে।
প্রায় ১২ মিনিটের এ
ভিডিও বার্তায় বিচারপতি সিনহা বলেন , বাংলাদেশ একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে
যা অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মুখোমুখি হয়নি। “৩০ শে
ডিসেম্বার বাংলাদেশের একটি অস্তিত্বের লড়াই। বর্তমানে
দেশে যে অগনত্রান্ত্রিক অবস্থা চলছে তা অব্যাহত থাকলে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে
অর্জিত স্বাধীনতা ও মানচিত্র হারিয়ে ফেলব।” তিনি
বলেন, ” একটি
সভ্য দেশে দুটি দিক থাকে,
একটি আইনের শাসন এবং অন্যটি গনতন্ত্র। এ দুটি না থাকলে একটি সভ্য দেশ হিসেবে
পৃথিবীর বুকে আমরা মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারব না।”
আসন্ন নির্বাচনের
ব্যাপারে বিচারপতি সিনহা বলেন,
” এ নির্বাচনের মাধ্যমে
শুধু আইনের শাসন এবং গনতন্ত্র
প্রতিষ্ঠিত হবে না বরং এর সাথে সাথে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিধনের হাত থেকে
মুক্তি পাবার সম্ভাবনা তৈরি হবে।” পরিসংখ্যান
অনুযায়ী তিনি বলেন, ” সংখ্যালঘু
সম্প্রদায় বাংলাদেশে ৯% নেমে এসেছে ।
এনিমি প্রপার্টি তথা শত্রু সম্পত্তি যা হিন্দুদের ছিল তা আওয়ামীলীগ ৪৪.২%, বিএনপি
৩১.৭%, জাতীয়
পার্টি ৫.৮% এবং জামায়াতে ইসলাম ৪.৮% এবং অন্যরা ১৩.৫% ভোগ করছে।”
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়
নির্যাতনের ব্যাপারে তিনি বলেন,
সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিনিয়ত হচ্ছে যা অস্বীকার করার উপায় নেই। সরকার থেকে প্রয়াসই বলা হয় আমাদের দেশ
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে চলছে। এখানে
সাম্প্রদায়িক কোন দ্বন্দ্ব হচ্ছেনা। এটা
একেবারেই ভুল। ” তিনি আরো বলেন, আমরা
সচরাচর দেখে আসছি হিন্দু ভোটাররা চোখ বুঝেই আওয়ামীলীগকে ভোট দেন। কিন্তু তার প্রতিদানে তারা কি পান? তারা
নির্যাতিত হচ্ছে, তাদের
বাড়ি ঘর থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাদের
দেশ থেকে বের করে ভারতে রিফিউজি করা হচ্ছে। কিন্তু
কেন ?”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার
উঠিয়ে দিয়ে এক দলীয় নির্বাচন করার বিষয়ে বিচারপতি সিনহা বলেন, বিচারপতিদের
মতকে উপেক্ষা করে সরকার একতরফাভাবে নির্বাচন করছে। যার মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচন, ইউনিয়ন
পরিষদ নির্বাচনে শত শত মানুষ মারা যায় । সে
সরকারের আমলে জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে তা দৃশ্যমান।”
নির্বাচন কমিশনের
ব্যাপারে তিনি বলেন, ” সংবিধানে
নিরপেক্ষ নির্বাচন করার কথা বলা হয়েছে, যাদের সকল ক্ষমতা রয়েছে নিরপেক্ষ
নির্বাচন করার ব্যাপারে। কিন্তু
নির্বাচন কমিশন সে ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না । কমিশন
যদি সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করেন তাহলে এ আইনের অধীনেই নিরপেক্ষ
নির্বাচন করা সম্ভব। বাংলাদেশের
সকল নির্বাচনের আগে আগ্নেয়াস্র জমা দেবার প্রচলন থাকলেও এবারে সে নিয়ম মানা হয়নি । যার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজন মৃত্যুর ঘটনা
ঘটেছে এমনকি পুলিশের গুলি করার খবরও পাওয়া গেছে যাতে বিএনপির দুইজন প্রার্থীর আহত
হবার সংবাদ পাওয়া গেছে। আর
এ সব কিছুই হচ্ছে আইনের শাসন নেই বলে। নির্বাচন
কমিশন যদি আইনের শাসন কায়েম করতে পারত তাহলে এ ঘটনা আর ঘটতনা।”
বিচারপতি সিনহা আরও বলেন, “বিএনপির
শাসনামলে মাগুরার উপনির্বাচনের দুহাই দিয়ে আওয়ামীলীগ সবসময় বলে আসছিল ভোট ডাকাতি
যারা করে তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। কিন্তু সে আওয়ামীলীগ তাদের অধীনে কিভাবে
নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে বলে অন্যদের আশ্বস্ত করতে পারবে। ”
সম্প্রতি বাংলাদেশের
নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাশ হওয়া একটি আইন পরে শুনান বিচারপতি সিনহা
যেখানে বাংলাদেশের গনতন্ত্র,
আইনের শাসন,
মিডিয়ার স্বাধীনতা এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার ব্যাপারে
ব্যাপক জোর দেয়া হয়েছে। আইনটিতে
বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে বলা হয়েছে। ইউএস রেজুলেসনে বলা হয়েছে ২০০৭ সালেও
আমারিকার মতামতকে উপেক্ষা করা হয়েছিল এবার একই পথে হাঁটলে আমেরিকা বাংলাদেশের
ব্যাপারে অবরোধ জারি করতে পারে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান বিচারপতি
সিনহা। আইনটিতে
এমনও বলে হয়েছে যে, ইরান
এবং উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকা যে ধরনের অবরোধ জারী করেছে সে ধরনের অবরোধের
মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। আর
সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত কংগ্রেস এবং সিনেটের পরবর্তী সভায় নেয়া হতে পারে ।
উল্লেখ্য গত বছরের
অক্টোবরে দেশত্যাগ করেন বিচারপতি সিনহা এবং পরবর্তীতে দাবী করেন আওয়ামীলীগ সরকার
তাকে জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করেছে।

0 facebook: