![]() |
ডেস্ক
রিপোর্ট।। আসামের পর জাতীয়ভাবে পুরো ভারতে নাগরিকপঞ্জি করার উদ্যোগ নিয়ে চলছে
নানা আলোচনা। এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশের
জনগণের প্রত্যাশা- বন্ধুপ্রতিম ভারত এমন কিছু করবে না, যাতে
উভয় দেশের জনগণের মধ্যে দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বরং বন্ধুত্বের মাধ্যমে
বাংলাদেশ ও ভারত এগিয়ে যাবে। উভয় দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে।
শুক্রবার
বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে ‘একাত্তরের
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এমন প্রত্যাশা করেন।
এদিন দুপুরে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে একাত্তরের
ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭১
সালের এ দিনে ভারত বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার
সঙ্গে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। এ সংগ্রামে ভারতের বহুমাত্রিক অবদানের বিস্তারিত আলোচনা
ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অসম্পূর্ণ।
তিনি
বলেন, দুই
দেশের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক
বিশ্বাস, আস্থা
ও বোঝাপড়া বর্তমানে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে দৃঢ়তর। যার ফলশ্রুতিতে পারস্পরিক সহযোগিতা
ও উন্নয়নের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হচ্ছে। গত এক দশকে আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্ব
অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছে। যাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোনালি অধ্যায়
হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আমাদের দুই দেশের সরকার প্রধানদের এ যে অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ
সম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অনেক বেশি শক্ত ভিতে পরিণত করেছে।
এ সময়
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,
মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র
মোদি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি
প্রণব মুখার্জি ও কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীরও আসার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী বলেন, একাত্তরে
ভারত বাংলাদেশের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে
যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে,
সেটা চিরকালীন এবং সময়ের পরীক্ষায় সেটি সবসময় উত্তীর্ণ হবে। ৪৮
বছরে বাংলাদেশের ‘উন্নতি’ অনেক
দেশের কাছে ঈর্ষার বিষয়ে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা
বাংলাদেশের উন্নতিতে নিজেদের জন্য বড় রকমের অর্থনৈতিক সুযোগ দেখি। কারণ, আমরা
দু’জনে
একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারি- এটা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি? উন্নয়ন
এবং দুই সরকারের গৃহীত বহু পদক্ষেপের ক্ষেত্রে।
রিভা
গাঙ্গুলী বলেন, অপারেশন
সার্চলাইট, রবীন্দ্রসঙ্গীত
নিষিদ্ধ করা, একটা
প্রজন্মের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা- এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে, কিংবা
আরেকবার ‘আমি
বীরাঙ্গনা বলছি’ যেন
লেখা না হয়। একটা উদার নৈতিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ কাজ
করছে বা করে চলেছেন, ভারত
তাদের পাশে আছে।
বাংলাদেশের
সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক ভালো বলে মন্তব্য
করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন,
আজকে আমাদের সম্পর্ক বহুমুখী। আমাদের সম্পর্ক শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা
ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ট্র্যাডিশনাল খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এছাড়া আমরা তথ্যপ্রযুক্তি, মহাকাশ, পারমাণবিক
বিজ্ঞানের মতো নতুন নতুন ক্ষেত্রেও আমাদের সম্পর্ক বাড়াচ্ছি। নরেন্দ্র মোদির ‘সাবকা
সাত, সাবকা
বিকাশ’ উদ্যোগের
কথা তুলে ধরে তিনি বলেন,
ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দেয়।
আমাদের কাছে প্রতিবেশী প্রথম এবং প্রতিবেশীর মধ্যে বাংলাদেশ সবার আগে।
বাংলাদেশকে
ঋণচুক্তির আওতায় (এলওসি) ৮ বিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা উল্লেখ করে রিভা গাঙ্গুলী বলেন, মোটামুটি
এর ৮০ ভাগের বেশি অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটি প্রকল্পে ব্যবহৃত হয়েছে। অবকাঠামো ও কানেক্টিভিটির
উন্নয়ন প্রবৃদ্ধির একটা ইঞ্জিন। আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের
যৌথ উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে,
আমাদের এ সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য।
সভাপতির
বক্তব্যে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী
মানিক বলেন, রোহিঙ্গা
সমস্যার সমাধান না হলে তা এ অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। আশা করছি, ভারত
প্রাণপণ চেষ্টা করবে যাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধে
অবদানের জন্য অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা মৈত্রী সম্মাননা দেয়া হয় ব্রিটিশ মানবাধিকার নেতা
জুলিয়ান ফ্রান্সিসকে। তিনি বলেন,
২৫ মার্চের পরে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়া শুরু করে।
এমনকি দিনে ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত পার হওয়ার ঘটনাও আছে। ওই সময় ভারত শরণার্থীদের দারুণভাবে
সহযোগিতা করেছে।
অনুষ্ঠানে
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির।
এসময় দেশ স্বাধীন করতে কোনো রাষ্ট্রকে এত ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি বলে মন্তব্য করে
তিনি বলেন, দুঃখের
বিষয় ’৭৫-
এর পরে বেশির ভাগ সময় দেশ শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, যারা
বাংলাদেশকে বারবার ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করতে চেয়েছে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত
ছিলেন- সাবেক ডেপুটি স্পিকার শওকত আলী, সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত প্রমুখ।

0 facebook: