![]() |
হাসান বিন মুমিন।। দেশের
অন্যান্য স্থানের মতো চাঁদপুরেও সমালোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিল বন্ধ
ঘোষণা করা হয়েছে।
গতকাল
১৪ ডিসেম্বর মাহফিল কমিটিকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়ে মাহফিল বন্ধ রাখতে জেলা প্রশাসন
কার্যালয় থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা
ও মাহফিল এন্তেজামিয়া কমিটির সভাপতি মুহম্মদ হোসেন গাজী।
নিরাপত্তার
অভাবে এবং কোনোরকম আপত্তিকর ঘটনার সৃষ্টি না করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে চাঁদপুর
সদর মডেল থানা থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৫ ডিসেম্বর
চাঁদপুর রেলওয়ে দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসায় আয়োজিত মাহফিলে মিজানুর রহমান আযহারী
অংশগ্রহণ করবে বলে মাহফিল কমিটি চলতি মাসের শুরুতে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি দেয়।
স্থানীয়
গণমাধ্যমে মাহফিলের খবরে আজহারীভক্তদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিলেও এই প্রেসবিজ্ঞপ্তি
প্রকাশের পর ডিসেম্বরের শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরের নবীপ্রেমিক মুজাহিদ মুসলিমদের
মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
চাঁদপুর
রেলওয়ে দারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে মিজানুর
রহমান আজহারী্র আসাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরের নবীপ্রেমিক মুসলিম মুজাহিদদের পক্ষ থেকে
লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।
বিতর্কিত
ইসলামী আলোচনা, আল্লাহ রাসূল কে কটূক্তি সহ দেশের সরকারী কার্যক্রম ও বিভিন্ন ভ্রান্ত
বয়ান দেয়ার আশঙ্কায় প্রতিপক্ষরা ওয়াজ বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগটি প্রদান করে বলে
জানা গেছে। তাই নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রশাসন পুরো ওয়াজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত
গ্রহণ করেন।
চাঁদপুর
মডেল থানার ওসি নাছিম উদ্দিন বলেন,
মিজানুর রহমান চাঁদপুর রেলওয়ে মাদ্রাসায় ওয়াজ করার জন্য আসার
খবর শুনে একটি পক্ষ অভিযোগ করেছেন। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ সুপারের নির্দেশে
ওয়াজ মাহফিল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তিনি
আরো বলেছেন, ‘রেলওয়ে
দারুল উলুম মাদ্রাসার মাহফিলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না থাকায় পুলিশ প্রশাসনও
অনুমতি দেয়নি।’
মাহফিল
পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাবেক পৌর কমিশনার হোসেন গাজী স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা
প্রথম দিকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মাহফিল প্রচারণা শুরু করেছি। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা
অবনতির আশংকার কথা জানিয়ে ১৩ ডিসেম্বর পুলিশের পক্ষ থেকে এবং আজ ১৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসনের
পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে আমাদেরকে মাহফিলের অনুমতি নেই বলে জানানো হয়েছে।’
এর আগে
বিশ্ব সুন্নী আন্দোলন নামে একটি সংগঠনের দাবিতে ডিসেম্বরের শুরুতে ফেনীতে মিজানুর রহমান
আযহারীর মাহফিল বন্ধ করে দেয় ফেনী জেলা প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি
উগ্রবাদী ভ্রান্ত আক্বিদাহ পোষণকারী ধর্মীয় বক্তাদের মধ্যে মিজানুর রহমান আজহারী বেশ
আলোচিত হয়েছে। তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্ক চলছে অন্যান্য উগ্রবাদী বক্তাদের চেয়েও
বেশী। বিভিন্ন মাহফিলে যুদ্ধাপরাধে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জামায়েত ইসলামী দলের নেতা
দেলোয়ার হোসে সাঈদীর প্রশংসায় বক্তব্য দিতে দেখা গেছে।
এছাড়াও
ওয়াজে বিভিন্ন শব্দ ও ভাষার ব্যবহার নিয়েও তার সমালোচনা করা হয়েছে।
তার কৃত
কিছু অনৈসলামিক কুফুরি বাক্য নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
১) আল্লাহ
হালায় কুরআন পাঠাইছে নবীর ঘাড়ে। নবী হালায় বয়ান দিছে সাহাবাগোর মাঝে। আমরা হালায় বয়ান
দিয়া যাইতাছি হালায়। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/34QSCNN)
২) বিশ্বনবীর
মাক্কী ইনিংসের খেলার নিয়ম ছিল ঠেক দিয়ে খেলতেন। ক্রিকেটে বলে উইকেট বাঁচায়ে খেলতে
হবে তোমায়। উইকেট যাতে পড়ে না যায়। বিশ্বনবী ঠেকায়ে ঠেকায়ে খেলছেন আর চার-ছক্কা মারছেন
সব মাদানি ইনিংসে। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/2RfG2Ui)
৩) মদ
খাওয়ার পরে উমরের ছেলে আবু শাহামা টাল হয়া গেছিল। উমর ফারুকরে কয়, আবে হালায়
আব্বা তুমি কেমন আছো? তোমারেতো
হালায় আমি চিনবার পারছিনা। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/34QSCNN)
৪) খাদিজা
ছিল বুড়ি, তালাক
প্রাপ্তা, প্রৌঢ়া, ইনটেক্ট
না, ভার্জিন
না, ৪০
বছরের বিধবা মহিলা। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/2DLGEcj)
৫) নবীজী
মূর্খ ছিলেন, তাঁর
অক্ষরজ্ঞান ছিল না। তিনি ছিলেন নিরক্ষর। আল্লাহ তাকে অক্ষরজ্ঞানের শিক্ষা দেয়নি। তিনি
আলিফ, বা, তা, ছা ছিনতেন
না, ১, ২, ৩, ৪, ৫ কিভাবে
লিখে তা জানতেন না। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/2PgUZmr)
৬) হযরত
আলী মদ খেয়ে মাতাল হয়ে নামাজে দাঁড়ায়ে সূরাহ ভুল পড়েছিল। হযরত উমর ছিলো মদুড়িদের রাজা।
নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/2Lp55Ar)
এছাড়াও
এদিকে মিজানুর রহমান আজহারী নিজেকে ফিরাউনের ভাতিজা বলেও দাবী করেছে। ফিরাউন নাকি তার
চাচা। (http://bit.ly/2rWUGFa)
খবর বিভাগঃ
উগ্রবাদী সন্ত্রাসী
জাতীয়
ধর্ম

0 facebook: