![]() |
ধর্মীয়
ডেস্ক।। আরবি রবিউস সানী মাসখানা প্রায় শেষের
পথে। ৭২৫ হিজরির ১৮ রবিউস সানী শরীফের ইতিহাসের
ঐ দিনে বিছালি শান মুবারক প্রকাশ করেন ভারত-উপমহাদেশের
বিখ্যাত বুযুর্গ,
তাকওয়া ও আধ্যাত্মিকতা, যুহদ ও দুনিয়াবিমুখতার অনন্য উপমা, হাকীকত
ও মারেফাত, হেদায়েত
ও ইরশাদের প্রোজ্জ্বল নক্ষত্র,
সুলতানুল আওলিয়া, সুলতানুল মাশায়েখ- হযরত নিযামুদ্দীন আওলিয়া
রহমতুল্লাহি আলাইহি।
হযরত
নিযামুদ্দীন আওলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি’র
নাম মুহম্মদ। পিতার নাম আহমদ। জন্মঃ ৬৩৬ হিজরীর ২৭ সফর ভারতের
বাদায়ূন অঞ্চলের এক সম্ভ্রান্ত সাইয়্যিদ পরিবারে। পিতা-মাতা উভয় ধারায় তিনি ছিলেন নবী বংশের সন্তান অর্থাৎ খাস আহলে বাইত শরিফ আলাইহিমুস সালাম।
মাত্র
পাঁচ বছর বয়সে উনার পিতার
ইন্তেকাল হলে মায়ের নিকট প্রতিপালিত হন। প্রাথমিক শিক্ষা জন্মস্থান বাদায়ূনে। ইসলামি
ফিকহসহ প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি মাওলানা আলাউদ্দীন উসূলীর নিকট। ষোল বছর বয়সে দিল্লিতে
মাওলানা শামসুদ্দীন খাওয়ারেযমী রহমতুল্লাহি
আলাইহি’র দরসে অংশগ্রহণ। হাদীসের ইজাযত গ্রহণ করেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস শায়খ
কামালুদ্দীন যাহেদ রহমতুল্লাহি আলাইহি’র (ইন্তেকালঃ ৬৮৪ হিজরী)-এর নিকট। যিনি মাশারিকুল আনওয়ার গ্রন্থের
লেখক আল্লামা হাসান ইবনে মুহম্মদ সানআনী রহমতুল্লাহি
আলাইহি’র সরাসরি শাগরিদ ছিলেন। এছাড়া স্বীয় মুরশিদ শায়খ ফরিদুদ্দীন গাঞ্জশেকর
রহমতুল্লাহি আলাইহি’র নিকট
আওয়ারিফুল মাআরিফ, তামজিদে
আবু শাকূর সালেমী প্রভৃতি তাসাওউফের উচ্চমার্গের কিতাবের সবক লাভ করেন।
ছোটবেলা
থেকেই হযরত নিযামুদ্দীন রহমতুল্লাহি
আলাইহি’র আধ্যাত্মিক
পরিবেশে তরবিয়ত প্রাপ্ত হন। বাল্যকালে যখন কোনো দিন ঘরে অনাহার দেখা দিত তখন উনার মা বলতেন, ‘আজ হাম
লোগ আল্লাহ পাক কি মেহমান হ্যাঁয়।’-আজকে
আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মেহমান। হযরত বলেন, একথা
থেকে আমি বড়ই রূহানী স্বাদ লাভ করতাম।’
ছাত্র
বয়সেই তিনি তাসাউ’উফের
প্রতি প্রবল আকর্ষণবোধ করেন। বিশ বছর বয়সে অযোধ্যা গিয়ে শায়খে কাবীর হযরত ফরুদীদ্দুন
রহমতুল্লাহি আলাইহি’র নিকট
বাইআত হন। আওয়ারিফুল মা’আরিফ-এর সবক গ্রহণকালেই তিনি শায়খের খেলাফত
লাভ করেন। শায়খ উনাকে দিল্লিতে
গিয়ে মানুষের হেদায়াতের কাজ করার হুকুম করেন। শায়খ উনাকে বলেছিলেন, ‘তুমি
একটি ছায়াদার বৃক্ষ হবে- যার ছায়ায় মহান আল্লাহ পাক উনার মাখলুক প্রশান্তি লাভ করবে।’
বস্তুত
হয়েছিলও তাই। এক সময় গোটা উপমহাদেশ ও উপমহাদেশের বাইরে থেকে মানুষ তার নিকট আসতে শুরু
করে। তার সান্নিধ্যে খোদাপ্রেমিক মানুষদের ভীড় এমন হারে বাড়তে থাকে-যার সামনে দিল্লির
সালতানাতও ম্লান হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন তার সাহচর্যে আত্মশুদ্ধি পেত।
তার দস্তরখানে আহার করত। কিন্তু তিনি ছিলেন দুনিয়াবিমুখ, আমীর-ওমারাদের
সঙ্গে সম্পর্কহীন, মাখলুকের
হেদায়াতে নিবেদিতপ্রাণ এবং সর্বক্ষণ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ধ্যানমগ্ন এক মহান সম্রাট।
বিছাল শরীফের চল্লিশ দিন পূর্ব থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূলের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহে তিনি খানাপিনা ত্যাগ করেছিলেন। তাকওয়া ও
ইবাদতের ব্যস্ততায় এই মহা মানব আজীবন কুমার ছিলেন। উনার মুবারক নামেই দিল্লির
বসতি নিযামুদ্দীনের নামকরণ হয়।
১৮ রবিউস সানী
শরীফের ৭২৫ হিজরীতে যুহ্দ, ইবাদত, হাকীকত, মারেফত
এবং হেদায়াতের মশালধারী এ মহান সাধক দুনিয়াত্যাগ করেন।

0 facebook: