Friday, January 3, 2020

ভারতকে ২০১৯ এর বিমান ধ্বংস ও পাইলট কান্ডের ঘটনা ভুলে না যাবার পরামর্শ পাকিস্তানের


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সন্ত্রাসের উৎসস্থলে আঘাত করার অধিকার রয়েছে ভারতের ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী নতুন সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে পাকিস্তান। জেনারেল মনোজ মুকুন্দ নরবণের এই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীনও প্ররোচনামূলক বলে বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। বালাকোটে ব্যর্থ অভিযানের পর ভারতীয় মিগ বিমান বিধ্বস্ত করা ও পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে আটক করার প্রসঙ্গ টেনে ইমরান খানের সরকার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে ভারতকে। বলেছে ওই ঘটনার কথা ভারত যেন ভুলে না যায়। তা ছাড়া এই ধরনের হামলা হলে পাকিস্তান যে তার যোগ্য জবাব দিতে প্রস্তুত আছে, সে ব্যাপারেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে।

ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে মঙ্গলবার দায়িত্ব নিয়েছে আরেক উগ্র হিন্দুত্ববাদী মনোজ মুকুন্দ নরবনে। ওই দিনই সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সে বলেছিল, পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদত দেয়া বন্ধ না করলে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মিরে সন্ত্রাসের উৎসস্থলে পূর্ব-পরিকল্পিত আঘাত করার অধিকার ভারতের রয়েছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও বালাকোটে অভিযানই তার প্রমাণ বলেও মন্তব্য করে উগ্র হিন্দুত্ববাদী জেনারেল নরবণে।

এর পর পরই তার বক্তব্যের জবাব দিলো পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতরের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘নিয়ন্ত্রণরেখায় পূর্ব-পরিকল্পিত হামলা সম্পর্কিত ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে খারিজ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে বা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতের দিক থেকে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে পাকিস্তান যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং প্রস্তুত তা নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। বালাকোটে ভুল অভিযানের পর পাকিস্তান কী জবাব দিয়েছিল, সেটা যেন কেউ ভুলে না যায়।’’

এর সঙ্গেই শান্তির বার্তাও দেয়া হয়েছে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘ভারত যতই উস্কানি দিক, গোটা অঞ্চলে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান কাজ করে যাবে।’’

গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামীদের এক ফেদায়ি হামলায় ভারতীয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী হানাদার বাহিনীর ৪০ জওয়ানের মৃত্যুর পর ভারত-পাক সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা বাড়ে। তার পর ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোর রাতে পাকিস্তানে ঢুকে বালাকোটে অভিযান চালিয়েছিল ভারতীয় বিমান বাহিনী। কিন্তু বিধি বাম, পর দিনই জবাব দেয় পাকিস্তান। এ সময় পাকিস্তান ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি মিগ বিমান বিধ্বস্ত করে ও এর পাইলট অভিনন্দনকে গ্রেফতার করে। পরে পাকিস্তান তাকে মুক্তি দেয়।

তার পর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদের পর থেকে দুদেশের সম্পর্কে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করার পর থেকেই উপত্যকায় কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি হয়।

বুধবারের ওই বিবৃতিতে সেই প্রসঙ্গ তুলে ইসলামাবাদের বক্তব্য, ‘‘কাশ্মীরে অমানবিক নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে কাশ্মীরের নাগরিকদের প্রতি সমর্থন সব সময়ই থাকবে পাকিস্তানের।’’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতায় পাকিস্তানের সমর্থন যে সব সময়ই থাকবে, তাও বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

সূত্রঃ ডন, আনন্দবাজার পত্রিকা


শেয়ার করুন

0 facebook: