![]() |
স্টাফ
রিপোর্টার।। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) একটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের
ধর্মীয় পোশাক জুব্বা ও রুমাল পরে ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে
হিন্দুত্ববাদী কর্তৃপক্ষ। গত ১ জানুয়ারি কুয়েট রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক
পত্রে এই ধর্মীয় পোশাক সম্পর্কে জানাতে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে জানা গেছে এর পেছনে মাথাব্যথার মূল হোতারা ইসলাম বিদ্বেষী।
কুয়েট
রেজিস্ট্রার জি এম শহিদুল আলম ও সহকারী রেজিস্ট্রার দেবাশীস মন্ডল স্বাক্ষরিত পত্রে
বলা হয়েছে, ‘ক্যাম্পাসে
বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে কিছু নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে
শোভা বা র্যালিতে অংশগ্রহণ করছে- যা নাকি বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিপন্থী বিধায় বিশ্ববিদ্যালয়কে
বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের ছাত্র কল্যাণ দফতর, সংশ্লিষ্ট
হল প্রভোস্ট বা বিভাগীয় প্রধানদের কাছ থেকে পোশাক সংক্রান্ত মতামত গ্রহণ করার জন্য
অনুরোধ করা হল এবং ছাত্র কল্যাণ দফতর, সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বা বিভাগীয় প্রধান
ও সকল শিক্ষকদের সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের
দেওয়া এই নোটিশ পেয়ে ওই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। নাম প্রকাশ
না করার শর্তে ওই ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, যদি আমরা এমন কিছু না পরে ওয়েস্টার্ন পোশাক
বা ধূতি-পাঞ্জাবি পরতাম তাহলে এত কথা হতো না। কিন্তু, আমরা
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষার্থী। কী পরবো না পরবো সে বিষয়ে আমাদের নিজেদের
স্বাধীনতা আছে। কোনও একটা ঘটনার সঙ্গে কেউ নিজের মতো করে কিছু মিলিয়ে অন্যের ওপর তার
মনোভাব চাপানোর চেষ্টাও দৃষ্টিকটূ এবং বিরক্তিকর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্য কারও
দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ ধরনের নোটিশ দিয়েছে যা মোটেও সঙ্গত নয়। সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে
কোনও ড্রেস কোড নেই। ভবিষ্যতেও থাকা উচিত নয়। এছাড়াও এটা আমাদের ধর্মীয় পোশাক, ৯৫%
মুসলমানের দেশে সুন্নতী পোশাক পরে শোভাযাত্রা করলে কেবল ইসলাম বিদ্বেষীদের গায়ে আগুন
লাগার কথা।
উল্লেখ্য, শেষ ক্লাস
উপলক্ষে সম্প্রতি কুয়েটের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের ১৫ ব্যাচের ছাত্ররা ভিন্নধর্মী
কিছু করার চিন্তা করেন। এরই অংশ হিসেবে আরবদের মতো ইসলামিক পোশাক পরে ছেলেরা। আর মেয়েরা
শাড়ি পরে ক্লাসে হাজির হোন। পরে তারা ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা করেন, একসঙ্গে
ঘুরে বেড়ান এবং ছবি তোলেন। আরব দেশীয় ইসলামিক পোশাক পরা কিছু ছবি তারা সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট করেন। এরপরই ছবিগুলো ভাইরাল হয়।
কুয়েট
শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী এ আয়োজন আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করে। ভিন্নধর্মী পোশাক পরায়
কেউ কেউ তাদের প্রশংসা করলেও ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল তাদের ধর্মীয় এই পোশাক নির্বাচন
নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি গণমাধ্যমেও বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই নোটিশটি জারি করে।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়
ধর্মীয় বিদ্বেষ
শিক্ষা

0 facebook: