Wednesday, January 8, 2020

অস্ট্রেলিয়া মানবতার মৃত্যু, পানি বেশি খাওয়ায় ব্রাশফায়ার করে মারা হবে ১০ হাজার উট!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। অতিরিক্ত পানি খেয়ে ফেলার কারণে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ১০ হাজারেরও বেশি উটকে গুলি করে মেরে ফেলার নির্মম সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আজ বুধবার (৮ জানুয়ারি) গুলি করে মারা হবে তাদের। এক আদিবাসী নেতার কাছ থেকে এ বিষয়ে আদেশ আসার পর উটগুলো মারার নির্মম সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার হেলিকপ্টার থেকে ব্রাশফায়ার করে এই নিরীহ উটগুলোকে গুলি করে মারার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ কাজটি করবে উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শুটাররা। ১০ হাজারেরও বেশি এই উটগুলো মারতে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের আনানজু পিতজানৎজাতজারা ইয়ানকুনিৎজাতজারা ল্যান্ডস (এওয়াইপি) এলাকার এক আদিবাসী নেতা এই নির্দেশ দিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চল খুবই খরাপ্রবণ এলাকা। যে কারণে এই অঞ্চলে পানির খুব সংকট রয়েছে। বন্য এই উটগুলো বেশি পরিমাণে পানি খেয়ে নিচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরও দুর্বিসহ হয়ে উঠছে বলে তাদের দাবী। এছাড়া পানির খোঁজে এদের বিচরণের কারণে সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলা হচ্ছে। এওয়াইপির নির্বাহী বোর্ডের সদস্য মারিতা বেকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছে, আমরা যে অঞ্চলে থাকি সেখানে খুব গরম পড়ে। খুবই অস্বস্তিকর পরিবেশে আছি। এর মধ্যে উটগুলোর উৎপাত আমাদের বিষিয়ে তুলেছে। তারা পানির জন্য ঘরবাড়িতে হানা দিচ্ছে, খেত মাড়িয়ে এসে ফসলের ক্ষতি করছে।

তবে সেখানকার কথিত পরিবেশবাদীরা দাবী করছে একটি কারণে উট না মারার বিরোধিতা করতে পারছেনা তারা। ক্ষতিকর মিথেন গ্যাস সৃষ্টির জন্য নাকি দায়ী এসব উট। দেশটির কর্তৃপক্ষ বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্যও নাকি উটেরা দায়ী। প্রতি বছর তাদের মলমূত্র থেকে যে পরিমাণ মিথেন গ্যাস বের হয় তা এক টন কার্বনডাই অক্সাইডের সমপরিমাণ। কার্বনডাই অক্সাইড নিয়ন্ত্রণে কাজ করা কার্বন ফার্মিং স্পেশালিস্টস রিজেনকোর প্রধান নির্বাহী টিম মুরে জানায়, এক মিলিয়ন উট প্রতিবছর এক টনের সমপরিমাণ কার্বন নিঃসরণের জন্য দায়ী। অর্থাৎ, ৪ লাখ গাড়ি থেকে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হয়, সেই পরিমাণ কার্বনডাই অক্সাইড সৃষ্টির জন্য দায়ী উট! দেশটির জাতীয় বন্য উট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বিভাগের দাবি, এই উটদের সংখ্যা যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে প্রতি নয় বছরে সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এত বিপুল সংখ্যক উট মেরে ফেলার পেছনে যে যুক্তি পেশ করা হচ্ছে তা মোটেও গ্রহণযোগ্য না অনেকের কাছে!

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি ভাইরাল হলে প্রায় শতভাগ মন্তব্য এরূপ আসে যে, উটগুলি না মেরে যেকোন গরীব দেশে তা উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেও পারতো, কিন্তু নির্মমভাবে হত্যা করা চরম অপরাধের কাজ ব্যতীত অন্য কিছুই হবেনা।


শেয়ার করুন

0 facebook: