Wednesday, January 8, 2020

ট্রাম্পের ‘উদ্দেশ্য সফল’: ইরানি জেনারেল হত্যার প্রভাব পড়েছে অভিশংসন প্রক্রিয়ায়


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। আমেরিকান ক্রুসেডারদের ড্রোন হামলায় ইরানি জেনারেল কাশেম সোলাইমানি হত্যার প্রভাব ক্রুসেডার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ার ওপরও পড়ছে।

ডিসেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় ভিত্তিতে ক্রুসেডার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর পরবর্তী ধাপ হিসেবে ট্রাম্পের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা সিনেটে।

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি অভিশংসন সিদ্ধান্ত সিনেটের হাতে এখন পর্যন্ত হস্তান্তর করেনি। রিপাবলিকান নেতৃত্বের হাতে এই বিচার কতটা নিরপেক্ষ হবে তা নিয়ে সংশয় ছিল তার। এর ফলে বিচার শুরু বিলম্বিত হয়। এখন নতুন করে ইরান ও ক্রুসেডার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা যুক্ত হয়েছে।

পেলোসি ভেবেছিলেন, প্রতিনিধি পরিষদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়া সত্ত্বেও লিখিত সিদ্ধান্তটি সিনেটে না পাঠিয়ে সে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেলের ওপর নিরপেক্ষ বিচারের জন্য চাপ প্রয়োগে সক্ষম হবে। কিন্তু ম্যাককনেল পেলোসির কথা আমলে নেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় সিনেটের ওপর চাপ প্রয়োগে স্পিকারের হাত আরও শিথিল হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই একাধিক রিপাবলিকান নেতা অভিযোগ করেছে, পেলোসি অভিশংসন প্রশ্নে রাজনীতি করছে।

ক্রুসেডার ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত কংগ্রেসম্যান মার্ক মেডোস বলেছে, ট্রাম্প যেখানে ক্রুসেডার মার্কিনবিরোধী এক ইরানি জেনারেলকে নিশ্চিহ্ন করতে ব্যস্ত, তখন পেলোসি অভিশংসন প্রশ্ন নিয়ে পানি ঘোলা করতে চাইছে।

তবে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত বিনা প্রশ্নে মেনে নিতেও রাজি নয় ডেমোক্র্যাটরা। জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণে ক্রুসেডার প্রেসিডেন্টের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও এই আক্রমণের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তাঁরা ইঙ্গিত করেছে।

২০১১ সালে ট্রাম্প নিজেই ওবামার বিরুদ্ধে তেমন একটি অভিযোগ তুলেছিল। ২০১১ সালে এক বিবৃতিতে ক্রুসেডার ট্রাম্প অভিযোগ করেছিল, পরবর্তী নির্বাচনে জয়লাভের জন্য ওবামা নির্ঘাত ইরান আক্রমণ করবে। সে কথা অবশ্য সত্য প্রমাণিত হয়নি।

ট্রাম্পের সেই বক্তব্য ইঙ্গিত করে, ম্যাসাচুসেটস থেকে নির্বাচিত কংগ্রেস সদস্য আইয়ানা প্রেসলি এক টুইটে বলেছে, ট্রাম্প বিশ্বাস করে, এই হামলা তাঁকে নির্বাচিত হতে সাহায্য করবে। সে কারণে দেশ এখন এক যুদ্ধের মুখোমুখি এসে পড়েছে।

সোলাইমানি যেকোনো সময় একাধিক ক্রুসেডার মার্কিন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আক্রমণ হানার পরিকল্পনা করছিলেন - ড্রোন হামলার পক্ষে ট্রাম্পের এমন সাফাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ডেমোক্রেটদের মতে, সোলাইমানির হত্যার ফলে ক্রুসেডার মার্কিন স্বার্থে হামলার আশঙ্কা কমেনি, বরং বেড়েছে।


শেয়ার করুন

0 facebook: