![]() |
পরিকল্পনা
অনুযায়ী অন্যতম বড় দেশ সৌদি আরব ভেঙে দুই ভাগ করা হবে। পবিত্র দুই শহর মক্কা ও মদিনা
নিয়ে হবে একটি দেশ। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘ইসলামিক স্যাকরেড স্টেট’ তথা ইসলামী
পবিত্র রাষ্ট্র।
আর এর
প্রতিবেশী দেশ ইরাককে করা হবে তিন খণ্ড। কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে হবে ‘ফ্রি
কুর্দিস্তান’, বর্তমান
রাজধানী বাগদাদ ও অন্যতম বড় শহর বসরা নিয়ে দ্বিতীয় খণ্ডের নাম হবে ‘আরব শিয়া
স্টেট’।
আর আরব
সুন্নি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে তৃতীয় খণ্ড ‘ইরাক সুন্নি স্টেট’। খ্যাতনামা
আন্তর্জাতিক গবেষণা ম্যাগাজিন গ্লোবাল রিসার্চের রোববারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে
এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালের ১৮ নভেম্বর।
মধ্যপ্রাচ্য
নিয়ে এই নিল নকশা বহুদিনের। ২০০৬ সালে অবৈধ দখলদার ইসরাঈলের কথিত রাজধানী তেলআবিবে
এক গোপন বৈঠকে প্রথম ‘নতুন
মধ্যপ্রাচ্য’র
কথা তোলে ক্রুসেডার যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রভাবশালী কূটনীতিক
কনডোলিজা রাইস। এরপর এক সংবাদ সম্মেলনে এক বিবৃতিতে সে বলেছে, ‘নতুন
মধ্যপ্রাচ্য’র
জন্ম এখন ক্রমেই বাস্তব হয়ে উঠছে। আমাদের (ক্রুসেডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের) এ ব্যাপারে
পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে যে,
আমরা নতুন মধ্যপ্রাচ্য তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং নিশ্চিতভাবেই
পুরনো মানচিত্রে আমরা ফিরছি না।’
মার্কিনিদের
নতুন এ ধারণার ক্ষেত্রে আগেরগুলোর সঙ্গে এর সবচেয়ে বড় পার্থক্যটি হচ্ছে, তারা
এটি বাস্তবায়নে শুধু কূটনীতিক বা রাজনীতিকদের ওপর নির্ভর করছে না। বরং সামরিক বাহিনীর
জেনারেলদের ওপর আস্থা রাখছে বেশি।
২০০৬
সালের জুনে কনডোলিজা রাইস ও অবৈধ দখলদার ইসরাঈলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট
ঘোষণা করে, নতুন
এই মধ্যপ্রাচ্য প্রকল্প লেবানন দখলের মধ্য দিয়ে শুরু হবে।
তাদের
এ ঘোষণার এক মাস পরই দখলের লক্ষ্যে লেবাননে হামলা চালায় অবৈধ দখলদার ইসরাঈলি হানাদার
বাহিনী। দ্বিতীয়বারের মতো লেবাননের এ আগ্রাসনে অবৈধ দখলদার ইসরাঈলকে সম্পূর্ণ মদদ ও
সমর্থন দেয় ক্রুসেডার যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন।
শুধু
শুধু মুখেই নয়, ‘নতুন
মধ্যপ্রাচ্য’ ধারণাটি
কাগজে-কলমে তথা মানচিত্র আকারেও প্রকাশ করেছে ক্রুসেডার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে
সর্বপ্রথম একটি মানচিত্র প্রকাশ করে ক্রুসেডার যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমির সাবেক
কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল র্যাল্ফ পিটার্স। ২০০৬ সালের জুন মাসেই ক্রুসেডার মার্কিন
সেনাবাহিনীর সাময়িকী আর্মড ফোর্সেস জার্নালে প্রকাশিত হয়। ওই মানচিত্রেই মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য-এশিয়া
ও এশিয়ার দেশগুলো নিয়ে নতুন নকশা দেখানো হয়।
সৌদি
আরব ও ইরাক খণ্ড খণ্ড করার পাশাপাশি সিরিয়া ও পাকিস্তানকেও ভেঙে নতুন নতুন দেশ দেখানো
হয়েছে। অবৈধ দখলদার ইসরাঈলকে বড় করতে এবং আরও শক্তিশালী করতে ভেঙে চোট করে ফেলা হয়েছে
পার্শ্ববর্তী লেবানন-সিরিয়াকে। লেবাননের পুরোটা ও সিরিয়ার অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ে গ্রেটার
অবৈধ দখলদার ইসরাঈল নামে নতুন রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া মানচিত্রে এশিয়ার দেশ
পাকিস্তানকে ভেঙে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
বর্তমান
রাজধানী ইসলামাবাদ ও করাচি নিয়ে মূল পাকিস্তান ও গোয়াদর বন্দরবিশিষ্ট বেলুচিস্তান নিয়ে
‘ফ্রি
বেলুচিস্তান’ দেশ
দেখানো হয়েছে।
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক
আমেরিকা
মধ্যপ্রাচ্য
সৌদি আরব

0 facebook: