![]() |
স্টাফ
রিপোর্ট।। ঢাকার আসন্ন দুই গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে নির্বাচন
কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
সোমবার
বিকেলে আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে কমিশনারদের সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠক করে ঐক্য
পরিষদের নেতারা।
বৈঠক
শেষ ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভারতীয় বিজেপি পন্থী, উগ্র হিন্দুত্ববাদী, রাষ্ট্রধর্ম
ইসলাম বিদ্বেষী রানা দাশগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেছে, হতাশ মনে ইসি থেকে আমাদের বিদায় নিতে হচ্ছে।
তারা (ইসি) সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলেছেন, আমরা আমাদের হৃদয়ের অনুভূতির কথা বলেছি।
আড়াই কোটি (সারা দেশেও তো আড়াই কোটি নাই) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আবেগের কথা বলেছি। পূজার
দিন ভোট হলে দেশের বাইরে কি বার্তা যাবে? সেখানে বলা হবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়
স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
রানা
দাশগুপ্ত বলেছে, সরকারের
হিসাব অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা। এদিন সরকারি ছুটি। আমরা বলার চেষ্টা করেছি, ২৯ জানুয়ারি
সাড়ে ১০টার পর থেকে সরস্বতী পূজার পঞ্চমী তিথি শুরু হবে। তারপর দিন ৩০ জানুয়ারি সকাল
১১টার দিকে তিথির অবসান ঘটবে। নিয়ম হলো, পঞ্চমী তিথির সকাল বেলা সূর্যোদয়ের পরে সরস্বতী
পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এটাই ধর্মীয় শাস্ত্রীয় রীতি-নীতি বা বিধান। এদিন নির্বাচন হলে পূজা
হবে কোথায়? আমাদের
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে
উৎসবের সঙ্গে পূজা হয়। নির্বাচন হলে কী করে পূজা-অর্চনা করবে? তাহলে
নির্বাচন হলে তো পূজা হবে না!
মন্ত্রী
পরিষদ গৃহীত ছুটির তারিখ হিসেব করে নির্বাচন কমিশন ভোটের তারিখ ঠিক করেছে জানিয়ে রানা
দাশগুপ্ত এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সে বলেছে, নির্বাচন
কমিশনের কথা হলো, মন্ত্রিপরিষদে
যেহেতু সিদ্ধান্ত হয়েছে ২৯ জানুয়ারি সরস্বতী পূজা, মন্ত্রিপরিষদ এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে
এখান থেকে তারা পিছু হটতে পারবেন না। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ থাকবে কোনোভাবে
যাতে তারিখটি পরিবর্তন করা যায়।
রানা
দাশগুপ্ত বলেছে, সরকার
ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে যদি শুভবুদ্ধির উদয় হয়, আমাদের অনুভূতিকে তারা যদি যথাযথ মর্যাদায়
গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে
আড়াই কোটি মানুষের পক্ষ থেকে তাদের ধন্যবাদ জানাব। এও বলেছি, সরস্বতী
পূজার দিন নির্বাচন হলে কী বার্তা যাবে সাধারণ মানুষের কাছে।
ভোটের
দিন পরিবর্তন না করার কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে এর দায় নির্বাচন কমিশন
ও সরকারকে নিতে হবে বলে জানায় এই হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ।
চার মাস
আগে কথিত দুর্গা পূজার সপ্তমীর দিন রংপুরে সংসদীয় উপনির্বাচন হয়েছে জানিয়ে রানা দাশগুপ্ত
বলেছে, আমরা
সেটারও প্রতিবাদ করেছিলাম। কিন্তু আমলে নেওয়া হয়নি।
কথিত
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে
কথা বলেন ইসির সিনিয়র সচিব মুহম্মদ আলমগীর।
তিনি
বলেন, সরকারি
ক্যালেন্ডার দেখে চলতে হয়,
সরকারি ক্যালেন্ডারে ছুটি আছে ২৯ তারিখ। ছুটির তারিখ পরিবর্তনের
হাত সরকারের, কমিশনারের
না। কমিশন গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করছে। মাধ্যমিক পরীক্ষা ১ তারিখ যার জন্য সব বিবেচনা
করে ৩০ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। কাল (মঙ্গলবার) আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন, দিলে
কমিশন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়
হিন্দু সমাচার

0 facebook: