Wednesday, February 5, 2020

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চড়া মূল্যে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস


স্টাফ রিপোর্ট।। বাজারে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, আটা, আদা, রসুন, এলাচ, শুকনা মরিচ, ভোজ্যতেলসহ ১০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছেমৌসুমে সব ধরনের সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম চাড়া


এতে ভোক্তাদের নাভিশ্বাস বাড়ছেইতারা বলছেন, বাজারে খাদ্যপণ্যের কোনো সংকট নেইচাহিদার সবটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তারপরও দাম বেশিকারণ বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর তৎপরতা নেইআর এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা ভোক্তার পকেট কাটছে

সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার, শান্তিনগর কাঁচাবাজার ও মালিবাগ বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এদিন মোটা চালের মধ্যে প্রতি কেজি স্বর্ণা বিক্রি হয় ৩৫-৩৬ টাকাযা তিন সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৩০-৩২ টাকা

নাজিরশাল বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা কেজিযা তিন সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৫০-৫২ টাকামিনিকেট বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা কেজিযা তিন সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ৪৬-৪৮ টাকা

মালিবাগ বাজারের খালেক রাইস এজেন্সির মালিক ও খুচরা চাল বিক্রেতা মো. দিদার হোসেন বলেন, মিলাররা এখনও চালের সংকট দেখিয়ে বাড়তি দরে বিক্রি করছেনযে কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের চাল

এতে ভোক্তাদের বাড়তি দরে চাল কিনতে হচ্ছেবাজারে চাল বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৪০ টাকাযা গত মাসের বুধবার বিক্রি হয় ৯০-১১০ টাকাএ ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭০-১২৫ টাকাযা বুধবার বিক্রি হয়েছে ৬০-৯০ টাকা

নয়াবাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মো. সুমন বলেন, আর কতদিন বেশি দরে পেঁয়াজ কিনতে হবে? চালের দামই বা কেন কমছে না? সরকার কি আমাদের মানুষ মনে করে না? নাকি পশু মনে করে? পশু মনে করলেও জীবের প্রতি দয়া থাকা দরকার

এখনও এই পণ্যটি বাড়তি দরেই কিনতে হচ্ছেআর বাজার মনিটরিং টিম কি করছে? তাদেরও দেখা যায় নাতারা যদি ভালোভাবে তদারকি করত, তাহলে দাম কমে আসতনিত্যপণ্যের দামে খুব অসহায় লাগছেদেখার যেন কেউ নেই

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি জানিয়েছে, গত এক মাসের ব্যবধানে সরু চাল ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছেআর মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি দরে

এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ সপ্তাহের ব্যবধানে ২৫-৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছেআমদানি করা পেঁয়াজ কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে

বাজারের মুদি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৪-৬৫ টাকাযা একদিন আগে রোববার বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকামসুর ডাল (বড়দানা) বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিযা একদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকাশুকনা মরিচ মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-৪০০ টাকা

যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ২৩০-৩৫০ টাকাআদা মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৮০ টাকাযা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১১০-১৬০ টাকা কেজিপ্রতি কেজি রসুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা

যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৫০ টাকাপাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন কোম্পানিভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০-৫২০ টাকাযা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৪৭০-৫১০ টাকা

কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকাযা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২০-৩০ টাকাপ্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকাযা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৫০-৭০ টাকাপ্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা

দেশি পাকা টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৬০ টাকাভালো মানের শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকাফুলকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকাএকই দামে বিক্রি হচ্ছে বাঁধাকপিএ ছাড়া প্রতি কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকাবেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকা কেজিমাঝারি আকারের প্রতি পিস লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৯০ টাকায়

শান্তিনগর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসেন রোকসানা বেগমতিনি বলেন, বাজারের প্রত্যেকটি পণ্যের দামে আগুনসব নিত্যপণ্য বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছেতদারকি সংস্থাগুলোও যেন নিশ্চুপসংশ্লিষ্টরা দেখেও যেন টিনের চশমা পরে আছে

কেন তারা দাম কমাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে না? কেনই বা তারা দর্শকের ভূমিকা পালন করছে? সংসারের যে মাসিক আয় তা দিয়ে পুরো মাসের ব্যয় বহন করতে হয়বাড়ি ভাড়া থেকে শুরু করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, সঙ্গে খাবারের খরচ তো আছেই

প্রতিদিন খাবার কিনতে বাড়তি খরচ করতে হচ্ছেএতে অন্যান্য ব্যয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছেতাই সরকারের এ বিষয়ে নজর দিতে হবে

জানতে চাইলে ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছেবিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে, যা কাম্য নয়এতে ভোক্তারা প্রতিনিয়ত অসহায় হয়ে পড়ছেনঅসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি রোধে সংশ্লিষ্টদের জোরালো ভূমিকা দরকার

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সরকারি পরিচালক আবদুল জব্বার মণ্ডল বলেন, অধিদফতরের পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুটি টিম বাজার তদারকি করছেকোনো অনিয়ম পেলে শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছেকাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে নাতিনি বলেন, যে কটি পণ্যের দাম বেড়েছে, তা কেন বেড়েছে খতিয়ে দেখা হচ্ছেসঙ্গে পণ্যের দাম ভোক্তা সহনীয় করতে কাজ চলমান আছে


শেয়ার করুন

0 facebook: