Monday, February 10, 2020

প্রধানমন্ত্রী হলেন 'আওলাদে আউলিয়া' আবারও মন্তব্য করলেন সংসদের হুইপ



স্টাফ রিপোর্ট।। হজরতউপাধি দেয়ার পর এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওলাদে আউলিয়াবলে মন্তব্য করেছেন সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।
রোববার বিকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ওই স্ট্যাটাসে শেখ হাসিনাকে হজরতবলার ব্যাখ্যাও দেন হুইপ স্বপন।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা তার শরীরে আউলিয়া পরিবারের রক্ত বহন করছেন। তিনি আওলাদে আউলিয়া।

হুইপ স্বপন আরও বলেন, ‘শেখ হাসিনা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়েন, কোরআন তিলাওয়াত করেন, হজ করেছেন বহুবার, সংখ্যা ও অর্থের দিক থেকে বিশ্বে সর্বোচ্চ পরিমাণ মসজিদ নির্মাণ করছেন, গ্রাম পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র প্রবর্তন করে সহি কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উন্নয়ন করেছেন, ইসলামী-আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, মাদ্রাসা শিক্ষার অভাবনীয় উন্নয়ন করছেন, আলেমদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান ও সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘সব শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করে তার ওপর গুরুত্বারোপ করে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী। সব ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। ইসলামের কল্যাণে তার মহৎ কর্মের ফিরিস্তি লিখলে একটি গবেষণা গ্রন্থ রচিত হবে।

প্রসঙ্গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হজরতসম্বোধন করেন সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন।

ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এ সম্বোধন করেন।

এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। অনেকেই হুইপ স্বপনকে নিয়ে কটূক্তি করছেন।

বিশিষ্টজনরা বলছেন, এইসব কিছু প্রধানমন্ত্রীর টাকায় নয় বরং জনগণের টাকায় এবং বিদেশ থেকে মসজিদ মাদ্রাসা করার জন্য যে ফান্ড এসেছে তা দিয়ে করেছেন। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কোন নিজস্ব কৃতিত্ব নেই। বরং উন্নয়ের নাম করে শত শত মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙ্গা হচ্ছে। উগ্রহিন্দুত্ববাদী ভারতের অর্থায়নে কথিত নদী সংস্কারের নামে শত বছরের পুরনো মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙ্গা হচ্ছে। অধিকারের নামে মৌলবাদী উগ্রহিন্দুদের পূজা করতে দিচ্ছে। কিন্তু মুসলমানদের রোজার মাসে বন্ধ না দিয়ে ছেলে মেয়েদের পরীক্ষা দিয়ে রোজা রাখতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। রাস্তা উন্নয়নের নামে মসজিদ ভেঙ্গে ফেললেও মন্দির বা গির্জা ভাজ্ঞা হচ্ছেনা।

তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলোতে সবাই একি প্রশ্ন তুলছেন, মসজিদ মাদ্রাসা ভেঙ্গে কিভাবে ইসলামের জন্য প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন? প্রধানমন্ত্রীকে রোজার মাসে পরীক্ষা বন্ধ এবং মসজিদ মাদ্রাসা ভাঙ্গা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে তাহলে তিনি উক্ত খেতাবের দাবিদার হবেন।


শেয়ার করুন

0 facebook: