Thursday, February 20, 2020

নদীকেন্দ্রীক মসজিদ মাদ্রাসা গুলো স্থানান্তর করা হবেঃ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী



স্টাফ রিপোর্ট।। নদী তীরের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলোচনার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ।

তিনি বলেন, কোনো মসজিদ ভাঙা হবে না, আমার সমন্বয় করব। নদীর জায়গায় মসজিদ হবে না, স্থানান্তর হবে, তবে সেটা আলোচনা করেই হবে। এখানে কোনো ফোর্স অ্যাপ্লাই করা হবে না।

আজ বুধবার সচিবালয়ে বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর তীরভূমিতে বিদ্যমান মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করে বাইরে নির্মাণ নিয়ে সভার শুরুতে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

দেশে সরকারি অর্থায়নে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে জানিয়ে খালিদ মাহমুদ বলেন, সেই আলোকেই আমরা আলোচনা করেছি। ঢাকার আশপাশে নদীর তীরে যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেগুলো যদি পরিকল্পিতভাবে করতে পারি, এর সংখ্যা অনেক কম। এটা করলে যখন আমরা নদী দিয়ে চলাচল করব এই ধরনের সুদৃশ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দেখব সেটাও আমাদের ভালোলাগার একটা বিষয় হবে।

বিদেশি মেহমানরাও যখন নদীতে ভ্রমণ করবেন, দেখবেন বাংলাদেশ সরকার একটি সুন্দর চিন্তা-ভাবনা নিয়ে একই ডিজাইনের এই প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলেছে। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে যখন সুন্দর সিদ্ধান্ত আসবে, তখনই আমরা বাস্তবায়নে যাব। এখানে স্থাপনা নির্মাণ, জায়গা নির্মাণের ব্যাপার আছে। (নদী দখল করে) এক জায়গায় তিন-চারটি প্রতিষ্ঠান হয়ে গেছে, সেগুলোতে এক জায়গায় সমন্বয় করা যায় কি না! এগুলো নিয়ে সার্ভে হচ্ছে।
কোনো জায়গায় এগুলো করা যায়। এজন্য একটি প্রকল্প করতে হবে। প্রকল্প করে অনুমোদন নেয়ার পর আমরা বাস্তবায়নে যাব। অনুমোদন দেয়া প্রকল্পগুলো আমরা বাস্তবায়নে আছি, অনেক ধরনের বাধা আসতেছে।

এদিকে ঢাকার চারপাশের নদীকে কেন্দ্রকরে গড়েওঠা মসজিদ মাদরাসাসহ ধর্মীয় স্থাপনা স্থানান্তর করে নদীর সীমানার বাইরে নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরে কতদিন লাগতে পারে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সার্ভে করে প্রকল্প প্রণয়ন করা হবে, এজন্য ডিপিপি প্রণয়ন করতে হবে। এটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘কোনো মসজিদ ভাঙা হবে না, আমার সমন্বয় করব। নদীর জায়গায় মসজিদ হবে না, স্থানান্তর হবে, তবে সেটা আলোচনা করেই হবে। এখানে কোনো ফোর্স অ্যাপ্লাই করা হবে না।

খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘অনেকেই এই বিষয়গুলো নিয়ে একটা অস্থিরতা, কিছু কথাবার্তা তারা চালাচালি করছে। যেটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতেও আমরা দেখেছি এই ধরনের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে অনেকে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে, তারা কিন্তু ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাননি। ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে এগুলো করেছেন। বিভ্রান্তমূলক কথাবার্তা কেউ অব্যাহত রাখলে সরকার শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বাধ্য হবে।

সভায় নৌ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আব্দুস সামাদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শেয়ার করুন

0 facebook: