Saturday, February 29, 2020

দিল্লীতে যখন মুসলিম গণহত্যা হচ্ছে পুলিশ তখন ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে ব্যস্ত


আন্তর্জাতীক ডেস্ক।। উগ্রহিন্দুত্ববাদী ভারতের রাজধানী দিল্লীতে উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের গণহত্যায় শহীদের সংখ্যা বেড়ে ৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত রোববার শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় রূপ নিয়েছিল। মুসলমানদের ওপর লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল আর ধারাল অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা।

গত রোববার উত্তর-পূর্ব দিল্লীর জাফরাবাদ ও মৌজপুরে প্রথম তাণ্ডব শুরু করে উগ্রহিন্দুত্ববাদীরা। এরপরই তা অন্য সব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে চারদিন ব্যাপী চলামুসলিম গণহত্যায় দিল্লী পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েন চেয়েছে দিল্লীর মূখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ল।

উগ্রহিন্দুত্ববাদী পুলিশের নীরবতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের মাঝেই জানা গেল, রোববার যখন বিভিন্ন এলাকায় দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ছিল পুলিশরা তখন ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে মত্ত ছিল।
দাঙ্গা শুরুর সময় দিল্লীর কনট প্লেসের কাছে বড়াখাম্বা রোডের একটি বেসরকারি স্কুল মাঠে বাৎসরিক প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ চলছিল। আর সেই ম্যাচে মশগুল ছিল দিল্লী অনেক পুলিশ সদস্য।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ওই মাঠ থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে জাফরাবাদ। আর সেখান থেকেই দাঙ্গার সূত্রপাত। সেদিন ক্রিকেট খেলা নিয়ে মজে থাকা পুলিশদের কাছে দাঙ্গার খবর এলেও তারা খেলা ছেড়ে সেখানে যায়নি। এমনকি স্থানীয়রা ফোনে বারবার সাহায্য চাওয়া সত্ত্বেও পুলিশ কর্ণপাত করেনি। পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বারবারই শোনা গেছে - ভিড় বাড়ছে’, ‘জনতা উত্তেজিত’, ‘বড় ঝামেলা হতে পারে’, ‘ফোর্স চাই
খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত একজন পুলিশও সহিংস এলাকায় যায়নি। এসব বার্তায় কান দেয়নি

ওই সময় পুলিশ তৎপর হলে সহিংসতা এত দূর গড়াত না বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলে, অতীতের অবস্থানে নেই ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আগে এ ধরনের পরিস্থিতি হলে সবার আগে প্রতিটি বাড়ির ছাদে পুলিশ মোতায়েন করা হত। আক্রমণের পথ বন্ধ করে দুর্বৃত্তদের পরিকল্পনা বানচাল করে দিত পুলিশ। দুবৃর্ত্তদের চারিপাশ থেকে ঘিরে পাকড়াও করা হতো। কিন্তু এবারের দাঙ্গায় প্রথম দুই দিন পুলিশ কী করবে, তাই স্পষ্ট ছিল না আমাদের কাছে।
দিল্লী পুলিশ এমন ব্যর্থ বাহিনীতে পরিণত কেন হলো এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলছে অনেকে
অনেকেই মনে করছেন পুলিশের উর্ধ্বতন ও অধস্তনদের মধ্যে অনাস্থা ও কমান্ড না মানা বড় কারণ।


শেয়ার করুন

0 facebook: