Sunday, March 15, 2020

ইটালি থেকে ফেরত ১৪২ জনের হজ ক্যাম্পে বিক্ষোভ


স্টাফ রিপোর্ট।। চীনের পর সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত দেশ ইতালি থেকে ফিরে আসা ১৪২ বাংলাদেশী নাগরিককে আশকোনার হজ ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। গতকাল সকালে এমিরেটাস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকা আসেন। বিমানবন্দর থেকেই তাদের হজ ক্যাম্পে নেয়া হয়। পূর্ব নির্ধারিত ফ্লাইটে এসব যাত্রী ঢাকা আসলেও হজ ক্যাম্পে তাদের জন্য কোন ব্যবস্থাপনা না থাকায় সেখানে বিক্ষোভ করেন এসব যাত্রীরা। এসময় তাদের সঙ্গে কজন শিশুও ছিল। হজ ক্যাম্পে তাদের রাখার সিদ্ধান্ত হলে সেখানে দেখা গেছে বিশৃঙ্খল অবস্থা। অপরিচ্ছন্ন ছিল বাইরের পরিবেশ। তাদের থাকার জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয় অনেক পরে।

এই সময়ে তারা ভবনের বারান্দা ও খোলা জায়গায় অবস্থান করেন।
সকাল নয়টার দিকে বিমানবন্দর থেকে হজ ক্যাম্পে নিয়ে আসার পর তারা বার বার বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভ ও হট্টগোল করেন। এসময় তারা দাবি জানান, তারা সুস্থ। ইতালিতে দুইবার তাদের করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে তাদের সনদ দিয়েছে। তাছাড়া দুবাইয়ে ট্রানজিট নেয়ার সময়ও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে। হজ ক্যাম্পের ভিতরে তাদের বিক্ষোভের সময় বাইরেও তাদের স্বজনদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এসময় বিক্ষোভস্থলে পুলিশের সঙ্গে ইতালি ফেরত লোকজন ও তাদের স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভের সময় তারা বেরিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করেন। এসময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। পরে সেনা সদস্যরা সেখানকার শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।

যাত্রীরা অভিযোগ করেন, হজ ক্যাম্পে আনার পর তাদের নিয়ে কর্তৃপক্ষ কী করতে চায়, তা বলছে না। শুধু পানি ছাড়া তারা আর কোনো খাবার পাচ্ছেন না। তাদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য কোনো কক্ষও দেয়া হচ্ছে না। ইতালি ফেরতদের মধ্যে একজন বলেন, আমরা আঠারো বিশ ঘণ্টা জার্নি করে বেলা ৯টার দিকে বাংলাদেশে এসেছি। আসার পর আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার নাম করে এখানে নিয়ে আসা হয়। আমাদের বলা হয়েছে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ছেড়ে দেয়া হবে। অথচ এখন ২টা বাজে। এখন পর্যন্ত আমাদের ছাড়েনি। আরেক ইতালি ফেরত বাংলাদেশি বলেন, তাদের ইতালির রোমে পরীক্ষা করা হয়েছে, দুবাইয়ে আরেক দফা পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সেখানে করোনা ভাইরাসের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশে আসার পর এখানে রাখা হয়েছে। আমরা এখানে থাকতে চাই না। প্রয়োজনে বাড়ি গিয়ে কোয়ারেন্টিনে থাকবো। আমাদের এখান থেকে মুক্তি দেন। ইতালি ফেরত এক নারী বলেন, আমার দুই শিশু প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখানে আরো আট দশজন শিশু রয়েছে । তারাও প্রায় অসুস্থ। অনেক সময় ধরে তারা খেতে পাচ্ছে না। এখানে আমাদের কোনো ধরনের খাবারও দিচ্ছে না। আমাদের যদি এখানে রাখার পরিকল্পনা থাকে তাহলে এখানে তো কোনো ব্যবস্থা নেই। তিনি বলেন, এখানে তারা অমানবিক অবস্থার মধ্যে আছেন। শিশুরা আছে। কিন্তু কোনো খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। ইতালি ফেরত স্বজনকে নিতে এসেছেন এমন এক ব্যক্তি সন্ধ্যায় বলেন, তাদের আজকের মতো ছাড়া হচ্ছে না। তারা হজ ক্যাম্পেই থাকবেন। তবে তাদের সঙ্গে আনা মালামালগুলো তাদের কাছে হস্তান্তর করে দিয়েছেন। কিন্তু কত সময় তাদের ক্যাম্পে থাকতে হবে কিছুই জানানো হয়নি। এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে শনিবার সকালে ঢাকায় আসার পর শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাদের সরাসরি নেয়া হয় আশকোনার হজ ক্যাম্পে। সম্ভাব্য ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে এই ১৪২ ব্যক্তিকে সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ইতালিতে যেহেতু বেশি ছড়িয়েছে, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেখান থেকে যারাই আসবে, তারা কোয়ারেন্টিনে থাকবে। প্রথমে তারা বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকবে, পরে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় হিমশিম খাওয়া ইতালি থেকে আরও শতাধিক ব্যক্তি আসছেন জানিয়ে তাদের নিয়েও একই পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোম থেকে দুবাই হয়ে সকাল ৮টায় এই ব্যক্তিরা ঢাকায় আসেন বলে জানান শাহজালাল বিমানবন্দর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ। পরে পুলিশ পাহারায় বিআরটিসির কয়েকটি বাসে এই ব্যক্তিদের আশকোনা হজ ক্যাম্পে নেয়া হয়। সেখানে তাদের স্বজনরাও ভিড় জমান। গতকাল সন্ধ্যায় ক্যাম্পের ভেতরে ইতালি ফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু হয়। এ ব্যাপারে এখনো কর্তৃপক্ষের দেয়া কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে একই দিন ইতালি থেকে আরো ৩২ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। তাদেরকেও হজ ক্যাম্পে কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা রয়েছে। এছাড়া একটি ফ্লাইটে ইতালি থেকে প্রবাসীদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। ওদিকে চীন থেকে ফেরা ২৩ বাংলাদেশি ভারতে কোয়ারেন্টিন শেষে গতকাল দেশে ফিরেছেন।

দিনে দিনে করোনার বিস্তৃতি বাড়ায়, অভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ কাঠমান্ডু, ব্যাংকক, যশোর, রাজশাহী রুটে এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়।

এখনও খোলা সিনেমা হল: করোনা ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিশ্বের অনেক দেশে সিনেমা হলসহ বিনোদনের বিভিন্ন স্থান বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও সিনেমা হল বন্ধ হয়নি। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সর্দি কাশি আছে এমন ব্যক্তিদের মসজিদে জামাতে নামাজ না পড়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কিন্তু সিনেমা হলের মতো এক সঙ্গে অনেক মানুষ বসেন এমন স্থানে কোন সতর্কতা না নেয়ায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।


শেয়ার করুন

0 facebook: