![]() |
স্টাফ রিপোর্ট।। দেশে
প্রতিনিয়তই বাড়ছে উচ্চ ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস)
২০১৯ সালের এক হিসাব বলছে,
দেশে উচ্চশিক্ষিতের ৩৩ দশমিক ৩২
শতাংশই বেকার। এ তালিকায় সবার ওপরে দেশের সর্বাধিক ব্যয়বহুল মেডিকেল ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
অবস্থান করছে
বলে তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ শ্রম জরিপে বলা হয়েছে, দেশের ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ চিকিৎসক ও প্রকৌশলী
বেকার। তালিকায় মেডিকেল ও প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের তুলনায় কম বেকার রয়েছেন উচ্চ
মাধ্যমিক পাস করা শিক্ষার্থীরা। আর ১০ দশমিক ২৫ স্কোর নিয়ে সাধারণ স্নাতক ডিগ্রিধারীরা চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের
চেয়ে আরও ভালো
অবস্থানে রয়েছেন।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) হিসাবে, স্বাধীনতার পর থেকে
স্নাতক শেষ করে চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন নিয়েছেন প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী। যদিও
তাদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টদের হিসাবে দেশে এখন সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল
কলেজগুলোতে চিকিৎসক
আছেন ৩০ হাজারের মতো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার
জনগোষ্ঠীর জন্য একজন চিকিৎসক থাকতে হয়। সেখানে বাংলাদেশে আছে প্রায় তিন হাজার লোকের জন্য একজন চিকিৎসক। দেশের
জনসংখ্যার হিসেবে
মোট ১ লাখ ৬০ হাজার চিকিৎসক প্রয়োজন। ফলে চাহিদার বিপরীতে প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসক ঘাটতি
রয়েছে দেশে।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব এহতেশামুল হক
চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে কঠিন
সিলেবাস পড়ে আসা ছেলেমেয়েরা বেকার থাকছে এটা হতাশার। মূলত চিকিৎসা খাতে নানা অনিয়মের কারণে এ সংকট সৃষ্টি
হয়েছে। গার্মেন্টস
ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন শিল্প কারখানাগুলোতে কর্মীর সংখ্যা হিসাব করে ডাক্তার নিয়োগ
বাধ্যতামূলক করতে হবে। এছাড়া ডাক্তারদের নিজেদেরও স্বনির্ভরতার পথ খুঁজতে হবে।
দেশের ১১১টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত
শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫২ হাজার।
প্রতি বছর ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক শেষ করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক
রয়েছেন মাত্র ১০ হাজারের মতো। বিএমডিসির নীতিমালা অনুযায়ী,
কোনো
মেডিকেল কলেজে বছরে ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হলে সেখানে ১৯৮ জন শিক্ষক থাকতে হবে। এ
হিসাবে দেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে ২৫ হাজার শিক্ষক থাকা দরকার।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এক সহকারী অধ্যাপক জানায়, চিকিৎসা শাস্ত্র অন্য শিক্ষার
মতো নয়। প্রথমত এখানে চিকিৎসক হওয়ার তীব্র প্যাশন (ঝোঁক) থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকতে হবে। এ
যোগ্যতা-দক্ষতা স্নাতক
(এমবিবিএস) লেভেলেই শিক্ষার্থীদের দিতে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্লাসরুমে এটা আমরা দিতে
পারছি না। আবার অনাগ্রহ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী এমবিবিএস পাস করছে। ফলে প্যাশন, যোগ্যতা ও দক্ষতার ঘাটতির কারণে বেকারত্ব বাড়ছে।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়

0 facebook: