স্টাফ রিপোর্ট।। করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত (সরকারি হিসেবে) ১৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৭০ বছরের একজন বৃদ্ধ মৃত্যুবরণ করেছেন। উক্ত বৃদ্ধ, হার্ট, কিডনি ইত্যাদি নানাবিধ রোগে আক্রান্ত
ছিলেন সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়াতে বৃদ্ধটি মারা যায়। এই
ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সকলকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে সর্বমহল থেকে। বাদ যাচ্ছে না সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমও। বিশেষ
করে ফেসবুকে ব্যাবহারকারীরা সচেতনতামূলক পোস্ট দিচ্ছেন, করণীয় নিয়ে শেয়ার করছেন বিশেষজ্ঞদের
লিখিত ও ভিডিও বার্তা। তবে এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে গুজব ও আতঙ্কও ছড়ানো হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কোন তথ্য নিশ্চিত
না হয়েই অনেকেই
বিভিন্ন এলাকায় আক্রান্ত হওয়ার খবর ও মৃত্যুবরণ করার খবর ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ব্যবহারকারীরা
তা নিশ্চিত না করেই শেয়ার করছেন
নিজেদের
ওয়ালে। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্কিত করার মতো তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। আর এসব তথ্য দেখে সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
ফেসবুকে গুজব ও আতঙ্ক ছড়ানোর দায়ে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন
স্থানে কয়েকজনকে
আটকও করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫জনকে
আটক করেছে ডিএমপির সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান
সাইবার সিকিউরিটি
অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নাজমুল ইসলাম। সাইবার সিকিউরিটি
অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনা
ভাইরাস
বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে,
এতে
আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশের দুইজন মারা গেছেন’-
বিভিন্ন
ফেসবুক গ্রুপে ও কথিত নিউজ পোর্টালের
মাধ্যমে এই গুজব ছড়ানো হচ্ছিল।
দৈনিক খবর, টুইটবাংলা
ডটকম, অন্য
আলো নামে তিনটি ফেসবুক পেজ এবং
শেখ
রানা ও এম এ হাসনাত জামিল নামে দুটি ফেসবুক আইডিতে এই গুজব ছড়ানো হয়। সাইবার ক্রাইম কর্মকর্তা
নাজমুল ইসলাম বলেন, যারাই
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম
বা
অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে এ ধরনের খবর প্রচারণা চালাবে, তাদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের
আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুকে করোনাভাইরাস
নিয়ে
গুজব ছড়ানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে একজনকে আটক করে র্যাপিড
অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। আটক কামরুল হাসান রুমি বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ফেসবুক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে গুজব
ছড়ান যে, নগরীর
হালিশহর ক্যান্টরমেন্ট স্কুলের চার শিক্ষাথী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। অথচ এ তথ্য ঠিক নয়।
একই কারণে ওইদিন গাজীপুর থেকে একজনকে আটক করে শ্রীপুর থানা
পুলিশ। আনোয়ার হোসেন নামে ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও আতঙ্ক
ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ওই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে
উল্লেখ করা হয়- গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা
ট্রেনিং শেষে বাড়ি ফিরেছেন। ট্রেনিংয়ের সময় বিদেশি পর্যবেক্ষকদলের সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত
হয়েছেন তিনি। ওই শিক্ষিকা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে
চিকিৎসকরা পালিয়ে যান। করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তিনিও
হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যান। আরো কয়েকজনের মধ্যে এমন উপসর্গ দেখা যায়। তাদের ভাগ্যে কি ঘটেছে তা জানা নেই। আপনি আমি
আমরা কেউ এখন
নিরাপদ নই। তবে শ্রীপুর হাসপাতালে সেদিন ওই শিক্ষিকা চিকিৎসা না পেয়ে নিজে পালিয়ে গিয়ে
সন্তানদের নিয়ে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছেন। আর এলাকাবাসী বাড়ির নির্দিষ্ট দূরত্বে পাহাড়া বসিয়ে আল্লাহ আল্লাহ
করছেন। তিনি এখন
রীতিমত অবরুদ্ধ। ওই শিক্ষিকা এখন আতংকের নাম। জানিনা তার ও তার পরিবারের সদস্যদের
ভাগ্যে কি দুর্ভোগ আছে?
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে মন্তব্য
করে এ ধরনের
প্রচারে কান না দেয়ার আহবান
জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। এক্ষেত্রে উদ্বিগ্ন না হয়ে সচেতন হওয়ার
পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়

0 facebook: