চাঁপাই নিউজঃ ৪০ বছর ধরে
কবর খনন করে চলেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নূর মোহাম্মদ। এটাই যেন তাঁর একমাত্র নেশা
এখন।
কবর হলো মৃতদেহ মাটিতে দাফন
করে রাখার গর্ত। মৃত মানুষকে কবরে শায়িত করাকে বলা হয় দাফন করা। মুসলমানদের মৃতদেহ
মাটিতে দাফন করা হয়। পৃথিবীর প্রথম মানুষ হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার ছেলে কাবিল
তার ভাই হাবিল আলাইহিস সালামকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে প্রথম কবর দিয়েছিল। এটাই পৃথিবীর
প্রথম কবর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের তেমনি
এক মানুষ দিনের পর দিন হাজার হাজার মানুষের কবর খুঁড়ে চলেছেন কোন প্রকার
পারিশ্রমিক ছাড়া। পৌর সভার ১৪ নং ওয়ার্ডের আজাইপুর মহল্লার বাসিন্দা নূর মুহম্মদ। বয়স
প্রায় ৬৫-৭০ এর কাছাকাছি। তিনি বিগত ৪০ টি বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে মৃত মানুষের
দাফনের জন্য এ মহত কাজটি করে চলেছেন নিঃস্বার্থভাবে।
তিনি বলেন, আমি
বিগত ৪০ বছর ধরে প্রতিমাসে ৮-১০ জন মানুষের জন্য কবর খুঁড়েছি। সেই হিসেবে নূর মুহম্মদ
প্রায় ৪ হাজার মানুষের কবর খুঁড়েছেন। তিনি আরো জানান, কোনো
মানুষের মৃত্যুর খবর শুনলেই সব কাজ ফেলে কোঁদাল হাতে নিয়ে ছুটে চলেন গোরস্থানের
দিকে।
নূর মুহম্মদ বলেন, শত্রু-মিত্র, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী
অথবা অপরিচিত যেই হোক না কেন মৃত্যুর খবর শোনা মাত্রই ছুটে যায় কবরস্থানে। নিয়ম
অনুযায়ি কবর খুঁড়ে দিয়ে আসি। শুধু কবর নয় তার জানাযার নামাজেও শরিক হই। তিনি আরো
জানান, অনেক
পরিবারের মানুষ কবর খোঁড়ার জন্য টাকা দিতে আসে কিস্তু আমি সেটা নিই না। কারণ আমি
মনে করি এটা একটা মহত ও ভাল কাজ।
আমাকেও তো একদিন মরতে
হবে। মাটির ঘর কবরে যেতে হবে সবাইকে। এ কাজটি করলে মন থেকে প্রশান্তি পাই। তা-ছাড়া
আমি মনে করি মহান আল্লাহ পাক এ কাজের জন্য আমাকে ও আমার সকল পাপ কে ক্ষমা করে
দেবেন। নূর মুহম্মদ আরো জানান,
সমাজে মানুষের উপকারের জন্য নানা রকম কাজ মানুষ করে থাকে। মৃত
মানুষের জন্য স্বেচ্ছায় তিনি এই পেশাকেই বেছে নিয়েছেন।
বৃদ্ধ নূর মুহম্মদের মুখ
ভর্তি লম্বা দাঁড়ি। ৫ ওয়াক্ত নামায পড়েন তিনি। আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের কাজ করে
অভ্যস্থ তিনি। কখনও মাটি কাটা,
কখনও লেবার,
কখনও রাজমিস্ত্রির কাজ করে যা রোজগার করেন তাতেই তিনি খুশি। বৃদ্ধ
নূর মুহম্মদকে সকলে এলাকার কবর খুঁড়ার কারিগর হিসেবেই চেনেন ও জানেন।
শেষ বেলায় তিনি আরো বলেন, মৃত
মানুষকে দাফনের জন্য নিজ দায়িত্ব ভেবে, মুসলমান জেনে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা’র
সন্তুষ্টির জন্যই এই কাজ করে যাব যতদিন বেঁচে থাকি।
কথা বলার এক পর্যায়ে
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন,
আমি সারাটা জীবন এত মানুষের কবর খুঁড়লাম, না
জানি আমার কবরটি কেউ খুঁড়বে কি না?
সমাজে ব্যতিক্রম ও মহৎ কাজের জন্য তিনি সত্যি ইতিহাস হয়ে
থাকবেন সকলের অন্তরে।
সুবহে সাদিক মনে করে যে
উনাকে সরকারীভাবে পুরস্কার দেওয়া উচিৎ এবং গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ড এর উচিৎ উনাকে
বিশ্বের ১ নাম্বার কবর খননকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।
খবর বিভাগঃ
ধর্ম
বিভাগীয় সংবাদ
রাজশাহী বিভাগ

0 facebook: