Thursday, December 20, 2018

সরকার কে ড. কামালঃ এখানে পার পেলেও পরকালে পাবেন না


ডেস্ক রিপোর্টঃ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে নির্বাচনের নামে প্রহসন হচ্ছে। পুলিশকে মানুষের ওপর লেলিয়ে দিয়েছে সরকার। পুলিশকে ব্যবহার করে যেভাবে হয়রানি, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তা সংবিধানপরিপন্থী। তফসিল ঘোষণার পরও পুলিশ যেভাবে গ্রেপ্তার চালাচ্ছে সেটি লজ্জাকর। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর কোনো আঘাত এলে ভয়াবহ পরিণতি হবে। তিনি বলেন, ‘দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন হতে থাকলে, পুলিশকে অপব্যবহার করতে থাকলে আপনাদের শাস্তি  হবে, এটি মনে রাখবেন। এখানে কোনোভাবে পার পেলেও পরকালে পাবেন না।

মানবাধিকার, সুশাসন ও ভোটাধিকারশীর্ষক এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ড. কামাল হোসেন। ৭০তম বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ও বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ মানবাধিকার ফেডারেশন (বিএইচআরএফ)। বিএইচআরএফের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ড. মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুল আহছান কলিম উল্লাহসহ আরো অনেকে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি ড. গোলাম রহমান ভূইয়া।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ রাস্তায় রাস্তায় হয়রানি করছে। বিনা কারণে গ্রেপ্তার করছে। এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা পুলিশের নেই। কোনো নির্বাচনের আগে এমন অবস্থা দেখিনি। সরকারকে বলব, পুলিশকে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেন।তিনি বলেন, ‘এটিকে কেউ সুশাসন বললে বলব, মিথ্যা বলছেন। কেউ যদি বলেন দেশে সুশাসন আছে তাহলে বলব, আপনি মিথ্যুক।তিনি বলেন, ‘আপনারা কোন ক্ষমতার বলে শাসন করছেন সেটা আমরা পরে বুঝব। এখন যেটা করছেন একদমই সংবিধানপরিপন্থী কাজ করছেন।

তিনি নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের আর আছে ১০ দিন। এটা দেশের জন্য, স্বাধীনতার জন্য, ভবিষ্যতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনারা ক্ষমতা কাজে লাগান, তাহলে ভালো নির্বাচন হবে। উজ্জ্বল ভবিষৎ সামনে। আর এটা না করে যদি নির্বাচনের ওপর কোনো আঘাত দেওয়া হয়, তাহলে ভয়াবহ পরিণতি হবে।

নিজেকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, সাহস থাকলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে নিন। উচিত কথা বলছি, ধরে নিয়ে যান আমাকে। আপনার পুলিশের সামনে আমি এ কথা বলছি। খুব সাহসী আপনারা। ধরেন আমাকে। আশ্চর্য, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর এসব দেখতে হচ্ছে।

নির্বাচনের নামে প্রহসনের চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, ‘তথাকথিত নির্বাচনের নামে প্রহসনের মধ্য দিয়ে ৩০০ লোককে নির্বাচিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) তো বলেছেনই আরো পাঁচ বছর থাকতে চান। অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে চান। এই পাঁচ বছর পরে আরো কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকবে, তখন আমি বলব আরো পাঁচ বছর থাকেন।

তিনি বলেন, ভোটের অধিকার সবাই ভোগ করুক। স্বাধীনভাবে নির্ভয়ে তারা যেন ভোট দিতে পারে। স্বাধীন দেশে যদি নাগরিকরা ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় তাহলে সেটি হবে স্বাধীনতার ওপর আঘাত। এ আঘাত দেশদ্রোহের শামিল। কেউ যদি মনে করে দেশদ্রোহ করে পার পাওয়া যায়, তা ঠিক না। আজ হোক কাল হোক তার বিচার হবে।


শেয়ার করুন

0 facebook: