Monday, December 9, 2019

১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে এক হিন্দু দম্পতি!


আন্তর্জাতিক ডেস্ক।। সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের নওগাঁ শাখা থেকে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী দম্পতি উধাও হয়েছে বলে অ'ভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক ৯ অক্টোবর নওগাঁ সদর থা'নায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

ওই ব্যবসায়ী দম্পতির নাম গোপাল আগারওয়াল ও দীপা আগারওয়াল। তারা নওগাঁ শহরের পোস্ট অফিসপাড়া এলাকার বাসিন্দা। গোপাল আগারওয়াল জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং দীপা আগারওয়াল মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিং নামের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী।

'ভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গোপাল আগরওয়ালা ও তার স্ত্রী' দীপা আগরওয়ালা সাউথইস্ট ব্যাংকের নওগাঁ শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ঋণ সুবিধার জন্য আবেদন করে। তাদের অর্জিত সম্পত্তির ভিত্তিতে গোপাল আগরওয়ালাকে ৮৪ কোটি ১৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং তার স্ত্রী' দীপাকে ৩০ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজারসহ মোট ১১৪ কোটি ৯৪ লাখ ২ হাজার টাকা প্রদান করে।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা নির্ধারিত সময়ে ব্যাংককে ঋণ পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দেয়া হলেও একপর্যায়ে তারা ব্যাংকের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আত্মগো'পনে চলে যায়।

'ভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান শুরু করেছে দু'র্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অ'ভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মুহম্মদ আবুল কালাম আজাদকে অনুসন্ধান কর্মক'র্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্মক'র্তা নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইল দুদক সচিব মুহম্মদ দিলোয়ার বখত অনুসন্ধান পর্যায়ে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকার করেন।

অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেএন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড মূলত স্বয়ংক্রিয় চালকল এবং মেসার্স শুভ ফিড প্রসেসিং প্রতিষ্ঠানে মাছ ও মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়। সম্প্রতি কারখানা দুটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ভেতরের সরঞ্জামগুলোতে মরিচা ধরা শুরু করেছে। গুদাম ঘরগুলো ফাঁকা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৩ কর্মচারীকে দেখভালের জন্য রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ৪৫ জন কর্মচারীর বেশ কয়েক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

কারখানার মূল ফটকে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড নওগাঁ শাখার পক্ষ থেকে ১৫ অক্টোবর সম্পত্তির তফসিল উল্লেখ করে নোটিশ টানানো হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, মোট ৪৩৪ শতক জমিতে অবস্থিত (১৩ দশমিক ১৫১ বিঘা) ইন্ডাস্ট্রিজের সব কার্যক্রম বন্ধ।

স্থানীয়রা জানান, এমন নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া মানেই এতে ঘাপলা রয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যোগসাজশে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ খেয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় দেড়গুণ বেশি ঋণ দিয়েছে। আর সরকার ও জনসাধারণের টাকা আত্মসাত করে এ দম্পতি এখন ভারতে পালিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামাল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়াদে ওই ব্যবসায়ী দম্পতি ব্যাংক থেকে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সুদে-আসলে তাদের কাছ থেকে ব্যাংকের পাওয়া আরও বেশি। এক বছর ধরে তাদের ঋণের কিস্তি অনিয়মিত। এ বিষয়ে ব্যাংকের পক্ষ থেকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। সম্প্রতি হুট করে তাদের সঙ্গে ব্যাংকের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্যাংকের পক্ষ থেকে নানাভাবে খোঁজ করেও তাদের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে, তারা ভারতে চলে গেছেন। এ ঘটনায় ৯ অক্টোবর সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেডের নওগাঁ শাখার ব্যবস্থাপক কাম'রুজ্জামান সদর থা'নায় জিডি করেছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, এক দিনে এ ঋণ তাদের দেওয়া হয়নি। তারা নওগাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। গোপাল আগারওয়ালের দাদা ও বাবাও সুপরিচিত ব্যবসায়ী ছিল। ওই দম্পতি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের কাছে যে সম্পদ বন্ধক রেখেছেন, তা ঋণের প্রায় ৭০ শতাংশ। তাদের আরও কিছুদিন খোঁজা হবে। তারপরও না পেলে বন্ধকি সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হবে।


শেয়ার করুন

0 facebook: