![]() |
হাসান বিন মুমিন।। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী
ঘোষণা দিয়েছে ঢাকার চারপাশে নদী তীরে নাকি ৭৭টি মসজিদ আছে, এই মসজিদগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে। (বিস্তারিত এখানে পড়ুন)
এ প্রসঙ্গে কিছু
তথ্য জানা প্রয়োজন-
১) এই প্রকল্পে
অর্থায়ন করছে ভারত। ৭ মাস আগে ভারত ঘোষণা দেয়, তারা ঢাকার চারপাশের
নদী তীরগুলো দূষণমুক্ত করবে (মসজিদ কি দূষিত জিনিস?)। (বিস্তারিত এখানে পড়ুন)
২) মসজিদগুলো সরানো
হচ্ছে সৌন্দর্য বর্ধনের নামে। কিন্তু মসজিদ কিভাবে নদীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে এটা বুঝে আসছে
না। নাকি পুরোটাই ভারতীয়
হিন্দুত্ববাদীদের সাম্প্রদায়িক চুলকানি?
৩) বার বার বলা
হচ্ছে, এই মসজিদগুলো নাকি অবৈধ। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা
কথা। সত্য হলো- যেসব
মসজিদ ভাঙ্গার লিস্টে আনা হয়েছে, এগুলো অবৈধ নয়, বরং পাবলিক জমি ওয়াকফ করে মসজিদের জন্য যায়গা দিয়েছে। এর অনেকগুলো আছে
শত বছর পুরাতন ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। অনেকগুলো মসজিদ নদী থেকে দূরবর্তী এলাকায় ছিলো, কিন্তু নদী ভাঙ্গনের ফলে মসজিদগুলো নদীর তীরে চলে এসেছে। এছাড়া ঘাটে লোক
জমায়েত হওয়ায়, তাদের নামাজের সুবিধার্থে এলাকাবাসী সেই
মসজিদগুলো নির্মাণ করেছেন।
৪) এসব ক্ষেত্রে
মসজিদ ভাঙ্গার জন্য সরকারী লোকজন কিছু কৌশল অবলম্বন করে। প্রথমে তারা মসজিদ
কমিটির কিছু অসাধু সদস্যের সাথে যোগাযোগ করে টাকার লোভ দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যা
গল্প রটায় দেয়- তারা স্বপ্নে দেখেছে এই মসজিদ অনেক বড় হবে। এরপর মুসল্লীদের
বুঝায়- সরকারী কথায় মসজিদ ভাঙ্গলে বড় মসজিদ গড়ে দেয়া হবে। উল্লেখ্য, রাজধানীর হাতিরঝিল প্রকল্প তৈরী করতে ৫টি মসজিদ ও ১টি মাদ্রাসা
ভাঙ্গলেও ১টি মন্দির ভাঙ্গা হয়নি, বরং বাকা করে ঘুড়িয়ে
নেয়া হয়। আরো উল্লেখ্য ২০১৬
সালে একটি দৈনিকে খবর আসে, পুনর্নিমার্ণের
আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও ৮ বছর হলেও পুননির্মাণ হয়নি হাতিরঝিলের ১৬ বছর পুরাতন জাবাল-ই
নুর মসজিদ। (বিস্তারিতএখানে পড়ুন)
৫) সরকারে কথিত
উন্নয়ন প্রকল্পের নামে গণহারে মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে হাইকোর্টে একটি রীট
হয় এবং হাইকোর্ট এই মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে রুলও জারি করে। কিন্তু এ রুলের
বিষয়টি না জানার না কারণে অনেক মসজিদ কমিটি বেআইনীভাবে তাদের মসজিদ ভাঙ্গার বিরুদ্ধে
কোন প্রতিবাদ করতে পারছে না। (বিস্তারিত এখানে পড়ুন)
বলার অপেক্ষা রাখেনা
যে ভারতে এক বাবরী মসজিদ ভাঙ্গা হলে বাংলাদেশের মানুষ প্রতিবাদ করছে, কিন্তু এবার সেই ভারতীয় উগ্রহিন্দুত্ববাদীদের অর্থায়নে বাংলাদেশে
৭৭ মসজিদ ভাঙ্গার উদ্যোগ নিয়েছে নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়। এই ব্যাপারে বাংলাদেশের
জনগণের প্রতিক্রিয়া কি, সেটাই এখন দেখার
বিষয় কারন শরীয়ত অনুসারে মক্কা শরীফ, মদিনা শরীফ, আক্বসা শরীফ, এই ৩ মসজিদ ব্যতীত
দুনিয়ার সকল জুম্মা মসজিদের মর্যাদা এক সমান।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়
ধর্ম
ধর্মীয় বিদ্বেষ
ভারত

0 facebook: