![]() |
স্টাফ
রিপোর্ট।। মুন সিনেমা হলের মালিকানা নিয়ে পঞ্চম সংশোধনী বাতিলের রায় এসেছিল আট বছর
আগে। সেই রায়ের আলোকে সংবিধানও সংশোধন করা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ আদালত থেকে চূড়ান্ত
রায়ের পর আজ সেই সিনেমা হলের মালিক মূল্য বুঝে পেলেন।
মুন সিনেমার
সম্পত্তির মূল্যবাবদ আদালত সিনেমা হলের মালিক মাকসুদুল আলমের হাতে প্রায় শতকোটি টাকার
চেক তুলে দিলেন।
একইসঙ্গে
দ্রুত জমির রেজিস্ট্রেশন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের নামে সম্পন্ন করে দিতে বলেছে
সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার
বিচারপতির বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।
আদালতে
রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। মুন সিনেমা হলের পক্ষে
ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট সাইফুল্লাহ মামুন।
আদেশের
পর আজমালুল হোসেন কিউসি বলেন,
এ লড়াইটা শুরু হয়েছে ১৯৭২ সালে। উনি (মুন সিনেমার মালিক) তিনটি
রিট করেছেন। তৃতীয় রিট পিটিশনে ২০০৫ সালে শুনানি হয়েছিল হাইকোর্ট ডিভিশনে। তারপরে আপিল
বিভাগে ২০১০-এ। পরে আদালত অবমাননার মামলা হয় ২০১৩ সালে। যেটার ফল আজ আমরা পেয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা
কল্যাণ ট্রাস্ট, যে
টাকাটা দেওয়ার কথা ছিল সেটা দিয়েছে। তারপরেও কাজ শেষ হয়নি।
‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট যেন এ জমিটার
মালিক হয় সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদেশ দিয়েছেন। এটা আজ, কাল অথবা
অন্য একদিন রেজিস্ট্রেশন করতে। এটা আমাদের করতে হবে। টাকাটা এখন খরচা করতে পারবেন।
তবে জমি রেজিস্ট্রেশন করে দিতে হবে। জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ ফাইনাল অর্ডারের জন্য তারিখ
রেখেছেন।
সাংবাদিকদের
এক প্রশ্নে মাকসুদুল আলম জানান,
আমার তো ডিমান্ড ছিল অনেক। আমি পাইলাম অনেক কম। মাত্র ৯৯ পেলাম।
তার পরিবার
ও ঢাকায় অবস্থানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মাকসুদুল আলম বলেন, আমার
এক ছেলে দুই মেয়ে। তারা বিদেশে থাকে। আমি আর আমার ওয়াইফ দেশে থাকি। আমি গুলশানের বানানী
থাকি।
জানা
যায়, পুরান
ঢাকার ওয়াইজঘাটে একসময়ে মুন সিনেমা হলের মালিক ছিল ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস লিমিটেড
নামে একটি কোম্পানি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে ওই
সম্পত্তি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে তুলে দেওয়া হয়। ইটালিয়ান মার্বেলের ব্যবস্থাপনা
পরিচালক মাকসুদুল আলম এই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করেন।
জিয়াউর
রহমানের শাসনামলে ঘোষিত এক সামরিক ফরমানে সরকার কোনো সম্পত্তি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলে
তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যাবে না বলা হয়। ইটালিয়ান মার্বেল ২০০০ সালে হাইকোর্টে ওই
ফরমানসহ সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী চ্যালেঞ্জ করেন। ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট হাইকোর্ট রায়
দেন। রায়ে মোশতাক, সায়েম
ও জিয়ার ক্ষমতা গ্রহণের বৈধতা দেওয়া সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ও সংবিধানপরিপন্থী
ঘোষণা করা হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয় ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। আপিল বিভাগ
হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে ইটালিয়ান মার্বেলকে মুন সিনেমা
হল ফেরত দিতে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু
সিনেমা হল ফেরত না পেয়ে ২০১২ সালের ১০ জানুয়ারি ইটালিয়ান মার্বেল ওয়ার্কস মুক্তিযোদ্ধা
কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন।
এক পর্যায়ে জানা যায়, মুন
সিনেমা হলের জায়গায় একটি ডেভলপার কোম্পানিকে দিয়ে একটি বিশাল মার্কেট তৈরি করেছে তা
সেলামি মূল্যে বিক্রি করেছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। তাই ওই সিনেমা হলের জায়গা
আর ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়।
এ অবস্থায়
২০১৭ সালের ১৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ওই সম্পত্তি অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ এক প্রকৌশলীকে দিয়ে
জমি ও স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন। অধ্যাপক
জামিলুর রেজা চৌধুরীকে দিয়ে এই মূল্য নির্ধারণ করতে বলা হয়। পরবর্তীতে জামিলুর রেজা
চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি ঐ সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা উল্লেখ
করে প্রতিবেদন দেন। এই প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে সরকার। এরপর আপিল বিভাগ টাকা পরিশোধের
নির্দেশ দেন।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়
ব্যবসা ও বাণিজ্য

0 facebook: