![]() |
ভারতীয়
টেলিভিশন এনডিটিভর প্রতিবেদন অনুযায়ী অপরাধীর ক্ষমা প্রার্থনার আপিল খারিজ করে রায়
ঘোষণার সময় জেলা জজ ধর্মেশ শর্মা বলে, তাকে ক্ষমা করা কিংবা সাজা কমিয়ে আনার মতো
কোনো যুক্তি আদালত খুঁজে পায়নি। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সে জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা
করেছে।
তবে যাবজ্জীবন এর পাশাপাশি আগামী একমাসের মধ্যে ২৫ লাখ রুপি জরিমানা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত, যার মধ্যে
১০ লাখ টাকা ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। যদি ওই পরিমাণ অর্থ জমা দিতে
ব্যর্থ হয় তাহলে আদালত আসামীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেয়ার নির্দেশ
দিয়েছে।
ভারতীয়
দণ্ডবিধি ও দেশটির বিদ্যমান শিশুদের যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক আইনে গত সেঙ্গারকে
দণ্ডিত করে আদালত। আড়াই বছর আগে ২০১৭ সালের জুনে ভারতের উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ে ১৭
বছরের মেয়েটি চাকরি চাইতে গিয়ে কুলদীপ সিং সেনগারের কাছে গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল।
কুলদীপ
সিং সেনগারের বিরুদ্ধে অভিযোগ,
সে ও তার সঙ্গীরা মিলে উত্তর
প্রদেশের উন্নাও জেলার ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এরপর নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী বিজেপি
বিধায়ক, তার
ভাইসহ সঙ্গীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এই ঘটনা নিয়ে তখন ভারতের
রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল।
২০১৮
সালে ৮ এপ্রিল উত্তরপ্রদেশে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের বাসভবনের সামনে
প্রতিবাদে বসে কিশোরী ও তার পরিবার। একপর্যায়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে
সে। তার পাঁচদিন পর ১৩ এপ্রিল বিজেপির বিধায়ক কুলদীপ সিং সেনগারকে কিশোরী ধর্ষণের
অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
তার আগে
প্রায় এক বছর এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পুলিশ। এরপর ওই কিশোরী বিচারের আশায় প্রশাসনের
কাছেও যায়। তবে কোনো সাহায্য পায়নি। বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা চালাচ্ছিল মেয়েটির
বাবা কিন্তু তারও অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে ফের প্রশ্ন ওঠে। এক্ষেত্রে অভিযোগের তির উঠে বিধায়কের ভাই অতুলের দিকে।
তারপর চলতি বছরের আগস্টে উন্নাও ধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত চারটি
মামলা উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌ থেকে নয়াদিল্লিতে সরিয়ে নেয়া হয়। ভারতের সুপ্রিম
কোর্ট দুই বছর আগে ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও তার পরিবারের চিঠি আমলে নিয়ে এই আদেশ দেয়। তারই প্রেক্ষিতে গতকাল দিল্লির আদালতে রায় হলো বহুল আলোচিত সেই মামলার।
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক
ধর্ষণ
ভারত

0 facebook: