![]() |
এই বিশাল
প্রতিবাদ মিছিলকে শুরুতেই আটকানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছিল পুলিশ। সকাল থেকেই ভীম আর্মির
প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদকে আটক করার জন্য ওত পেতে ছিল। কিন্তু কখনও ভিড়ে মিশে, কখনও
পুলিশের হাত ছাড়িয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দিল সে।
এ দিনের
মিছিলের জন্য পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি মেলেনি। চন্দ্রশেখর যাতে জামা মসজিদে মিছিলে
যোগ দিতে না পারে, তার
জন্য জামা মসজিদের গেটে পাহাড়ায় ছিল পুলিশ। এক সময় চন্দ্রশেখরের আটক হওয়ার খবরও ছড়িয়ে
পড়ে। কিন্তু তার পরই চন্দ্রশেখর নিজে টুইট করে জানিয়ে দেয়,
গুজবে কান দেবেন না। আমি যে কোনও পরিস্থিতিতে ঠিকমতোই পৌঁছব।
পুলিশি
এত বাধা সত্ত্বেও দুপুরে নামাজ পড়ার পর পুলিশি বাধার তোয়াক্কা না করেই শাহি জামে মসজিদ
থেকে বিশাল জনস্রোত রওনা দেয়। চন্দ্রশেখরের নেতৃত্বে দিল্লির জামে মসজিদ থেকে দুপুর
২টো নাগাদ রওনা দেয় মিছিল।
সামনে
ছিল ভীম আর্মি প্রধান চন্দ্রশেখর আজাদ। তার হাতে ভারতীয় সংবিধানের একটি প্রতিলিপি এবং
অম্বেডকরের একটি ছবিও ছিল। পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে জামে মসজিদের সমাবেশে ঢুকে পড়ে চন্দ্রশেখর।
জামে
মসজিদের বাইরে বেরনোর গেট বন্ধ করে দিয়ে প্রতিবাদীদের আটকানোর চেষ্টা করেছিল পুলিশ।
কিন্তু বিশাল জনস্রোতের সামনে পুলিশি বাধা কার্যত ভেঙে পড়ে। জামে মসজিদ থেকে রাস্তায়
বেরিয়ে পড়ে মিছিল। এর কিছু পরে দরিয়াগঞ্জের কাছে চন্দ্রশেখরকে আটক করেছিল পুলিশ। তবে
চন্দ্রশেখরকে আটক করে রাখতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ ভ্যানে তোলার আগে পুলিশের হাত ছাড়িয়ে
মিছিলে ফের সে ঢুকে পড়ে।
সহারণপুরে
হিংসার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। তবে পরে ইলাহাবাদ হাইকোর্ট তার
গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করে চন্দ্রশেখর আজাদকে জামিন দেয়।
পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, দিল্লি
ও পঞ্জাবের পর এ বার বিহারও চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
অমিত শাহের। সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিহারে সংযুক্ত জনতা দল (জেডিইউ)-বিজেপি
জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার শুক্রবার জানিয়ে দিলেন, তার রাজ্যে
জাতীয় নাগরিকপঞ্জি (এনআরসি) কার্যকর করা হবে না।
এদিকে, মুসলিম
না হলেও অনেক হিন্দু ও শিখ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তাদের। চালিয়ে যাচ্ছে আন্দোলন। চলমান
বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আটক করা হয়েছে কয়েক
হাজার বিক্ষোভকারীকে।
এরইমাঝে এক ভিডিও নাড়া দিয়েছে সবাইকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, হিন্দু ও শিখরা মানবশেকল বানিয়ে মুসলিমদের জন্য নামাজের
জায়গা করে দিয়েছে। আর সেই বলয়ে নামাজ পড়ছে মুসলিমরা। বাংলাদেশ, আফগানিস্তান
ও পাকিস্তান থেকে নিপীড়নের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি
ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত।
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক
ভারত
মুসলিম নির্যাতন

0 facebook: