![]() |
আন্তর্জাতিক
ডেস্ক।। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে পেয়েছে অন্য এক মাত্রা। দুই
দেশের সরকারের মধ্যে বেড়েছে পারস্পরিক যোগাযোগ, হয়েছে নানা চুক্তি, আর একে
অপরকে দিয়েছে ‘সবচেয়ে
পছন্দের দেশের’ মর্যাদা।
১) ১০০
কোটি ডলার ঋণ ও ১৪ প্রকল্পঃ
২০০৯
সালে ক্ষমতায় আসার একবছর পর ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনা প্রথম ভারত সফরে যান। সেসময় ১০০ কোটি ডলারের এলওসি বা ঋণরেখা অনুমোদন করে ভারত।
এই অর্থে জনপরিবহন, সড়ক, রেলপথ
সেতু আর অভ্যন্তরীন নৌপথের ১৪ টি প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি হয়।
২) বন্দী
বিনিময়ঃ
২০১০
সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় চুক্তি হয়।
২০১১ সালের ১৩ই জানুয়ারি তা কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে
সাজাপ্রাপ্ত হলে তাকে অনুরোধক্রমে ফেরত পাঠাতে পারবে। তবে এর আগেই অনুপ চেটিয়াসহ ভারতের
বিচ্ছিন্নতাবাদি নেতাদের গ্রেপ্তার করে দেশটিতে পাঠানো হয় বলে গণমাধ্যমে খবর বেরোয়।
৩) ছিটমহল
বিনিময়ঃ
২০১৫
সালের জুন মাসে ভারত-বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদন হয়। যার মাধ্যমে ২০১৫
সালের জুলাইতে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত ছিটমহল বিনিময় হয়। ভারতের ১১১টি ছিটমহল যুক্ত
হয় বাংলাদেশের সাথে। একইভাবে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলও হয়ে যায়
ভারতের অংশ।
৪) নদীর
পানি বন্টনঃ
বাংলাদেশের
ভারতের অভিন্ন নদীর সংখ্যা ৫৪ টি। এর মধ্যে শুধু গঙ্গা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি
আছে। তবে পানি বন্টনের ক্ষেত্রে এই চুক্তি ভারত মানছে না বলে অভিযোগ আছে। অন্যদিকে
পাঁচ দশক ধরে তিস্তা চুক্তির চেষ্টা চললেও তা সম্ভব হচ্ছে না দেশটির উদাসীনতার কারণে।
যার ফলে এখন একতরফাভাবে নদীটির পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে ভারত।
৫) ভারসাম্যহীন
বাণিজ্যঃ
১৯৭২
সালে প্রথম বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১৫ সালে স্বাক্ষর
হয় এ বিষয়ে নতুন চুক্তি। এর আওতায় দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে হাটসহ আরো কিছু বাণিজ্য
সম্পর্কিত চুক্তি হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের আকার ছিল ৯১৪
কোটি ডলার। যার সিংগভাগই ভারতের অনুকূলে।
৬) উন্নয়ন
সহযোগিতার কাঠামোঃ
২০১১
সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে একটি উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক
কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যার মধ্যে আছে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পানি
সম্পদ; বিদ্যুৎ; শিক্ষা, সাংস্কৃতিক
সহযোগিতা বৃদ্ধি ইত্যাদি।
৭) দ্বিপক্ষীয়
বিনিয়োগ বৃদ্ধিঃ
এই চুক্তি
সম্পর্কে ভারতীয় দূতাবাসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ‘‘দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে
এক দেশ অন্য দেশের ভূখণ্ড থেকে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রক্ষার লক্ষ্যে এ চুক্তি হয়েছে। ভারত
ও বাংলাদেশ একে অপরকে ‘সবচেয়ে
পছন্দের দেশ’-এর
মর্যাদা দিয়েছে।’’
৮) বাংলাদেশের
ভেতর দিয়ে ভারতের পণ্য পরিবহনঃ
দুই দেশের
মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী এক দেশ আরেক দেশের জল, স্থল
ও রেলপথ ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে পণ্য ট্রানজিটের সুবিধা নিতে পারে। ২০১৬ সালে যৎসামান্য
মাশুলের বিনিময়ে ভারতকে আশুগঞ্জ নৌ বন্দর দিয়ে বহুমাত্রিক ট্রানজিট সুবিধা দেয় বাংলাদেশ।
সড়কপথে ট্রানজিট দিতে ২০১৫ সালে আখাউড়া অগরতলা সীমান্ত দিয়ে পরীক্ষামূলক চালান পাঠানো
হয়। যা পরবর্তীতে নিয়মিত হয়নি।
৯) ভারতের
রেল যাবে বাংলাদেশের ভেতর দিয়েঃ
আগামী
বছরের মাঝামাঝি সময়ে কোলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে শিলিগুড়ি
যাবে। ২০১১ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় এ বিষয়ক একটি চুক্তি হয়।
চুক্তি অনুযায়ী এজন্য দুই দেশকে তাদের অংশের রেলপথ নির্মাণ করতে হবে। বাংলাদেশ অংশের
সাত কিলোমিটার রেলপথ আগামী বছরে জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা।
১০) সাবরুমের
মানুষের জন্য ফেনী নদীর পানিঃ
সম্প্রতি
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে সাতটি সমঝোতা চুক্তি সই করেছেন। একটি সমঝোতার
আওতায় ফেনী নদীর ১ দশমিক ৮২ কিউসেক পানি প্রত্যাহার করতে পারবে ভারত। ওই পানি তারা
ত্রিপুরার সাবরুম শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ব্যবহার করবে।
১১) বন্দর
ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনঃ
বাংলাদেশের
চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে ভারত আটটি রুটে তার উত্তর পূর্বাঞ্চলের
রাজ্যগুলোদে পণ্য আনা নেয়া করতে পারবে। এজন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর বা
পদ্ধতি কী হবে, তা
নির্ধারণে একটি সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফরে।
১২) চুক্তি
থাকলেও হত্যা থেমে নেইঃ
সীমান্তে
হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে ২০১১ সালে বিজিবি-বিএসএফ একটি চুক্তি করে। নেয়া হয় সীমান্ত
পারাপারে অস্ত্র ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত। তবে সীমান্তে দেশটির আচরণে তার প্রতিফলন
নেই। গত ১০ বছরে ২৯৪ বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
সুত্রঃ
ডিডব্লিউ

0 facebook: