![]() |
স্টাফ রিপোর্ট।। জামালপুরের
সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল পূর্বপাড়ায় সালেহা বেওয়া (৬২) নামে এক মা ছেলের হাতে খুন
হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার
সকাল ৭টায় তাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘাতক ছেলে মাছুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সালেহা
বেওয়ার বড় ছেলে হাবিবুর রহমান জাহাঙ্গীর জানান, তার বড়বোন নাজমা বেগমের ছেলে আবদুল্লাহ এক
সপ্তাহ আগে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসেছে। এ নিয়ে বুধবার বিকালে ভাগ্নে আবদুল্লাহর সঙ্গে
মামা মাছুদুর রহমানের ঝগড়া হয়। একপর্যায় আবদুল্লাহকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন মাছুদুর
রহমান।
এ নিয়ে
বুধবার রাতে সালেহা বেওয়ার সঙ্গে মাছুদুর রহমানের ঝগড়া হয়। এর জেরে সকালে বসতঘরে মা
সালেহা বেওয়াকে খুন করার প্রস্তুতি নেয় মাছুদ। এ সময় হাবিবুর রহমান জাহাঙ্গীরের স্ত্রী
রোজিনা বেগম শাশুড়ির ডাক-চিৎকার শুনতে পান। তিনি ঘরে ঢুকে দেখেন দেবর মাছুদুর রহমান
তার মায়ের বুকের উপর বসে গলায় ছুরি চালিয়ে তাকে হত্যা করছে।
এ সময়
রোজিনা বেগমকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে ঘাতক মাছুদ। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন
এবং ঘাতককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহত
সালেহা বেওয়ার বড় মেয়ে নাজমা বেগম জানান, তার ছোটভাই মাছুদুর রহমান কোরআনের হাফেজ।
সে বেশ কয়েক মাস যাবত মানসিক রোগে ভুগছে।
সরিষাবাড়ী
থানার ওসি মাজেদুর রহমান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ঘাতক
মাছুদুর রহমান মানসিক রোগী। তবে প্রকৃত ঘটনা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে স্বর্ণা আক্তার (১০) নামে এক মেয়েকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে
তার সৎ বাবার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার
রাত সাড়ে ৭টার দিকে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সফিপুর দক্ষিণ আহম্মদনগর এলাকার
নিজ বাড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর ওই সৎ বাবা পলাতক রয়েছে।
নিহত
স্বর্ণা আক্তার (১০) নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর কাচিয়াহাট এলাকার
মজির আলীর মেয়ে। সে কালিয়াকৈর উপজেলার আন্দারমানিক এলাকার আব্দুল্লাহ মডেল পাবলিক স্কুলের
২য় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
ঘাতক
সৎ বাবা মশিউর রহমান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানিয়াল পুকুর কাচিয়াহাট এলাকার
মৃত কালাতছিরের ছেলে।
নিহতের
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে,
স্বর্ণার মা রুপালী বেগম একই এলাকার তিন সন্তানের জনক মশিউর রহমানকে
বিয়ে করে। এরপর স্বর্ণা তার ভাই,
মা ও সৎ বাবা মশিউর গাজীপুরের কালিয়াকৈরে আসে।
পরে তারা
উপজেলার সফিপুর দক্ষিণ আহম্মদ নগর এলাকায় সাহাজ উদ্দিনের বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে
আসছিল। স্বর্ণা সেখানে তার পরিবারের সঙ্গে থেকে স্থানীয় আব্দুল্লাহ মডেল পাবলিক স্কুলের
২য় শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। আর তার মা রুপালী ও বড় ভাই রুবেল স্থানীয় পোশাক কারখানায়
কাজ শুরু করে।
কিন্তু
সৎ বাবা মশিউর কোনো কাজকর্ম না করে স্থানীয় মাদক সেবীদের সঙ্গে মিশে মাদকাসক্ত হয়ে
পড়ে। এ নিয়ে মা ও সৎ বাবা মশিউরের মধ্যে বিভিন্ন ঝগড়া-বিবাদ হত। এর জেরে বৃহস্পতিবার
ভোরে তার মা ও সৎ বাবার মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে তার মা রূপালী ও বড় ভাই কারখানায় কাজে চলে
যান।
বিকাল
৫টার দিকে তাদের ভাড়া বাসার পাশের খালি একটি কক্ষে স্বর্ণার গলা কাটা লাশ দেখে পুলিশে
খবর দেয় অন্য ভাড়াটে ও এলাকাবাসী। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৭টার দিকে কালিয়াকৈর থানা ও মৌচাক
ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
প্রাথমিকভাবে
ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক
কলহের জেরে সৎ বাবা ধারালো চাকু দিয়ে তার শিশু মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করেছে। তাকে হত্যার
পর তার সৎ বাবা মশিউর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।
কালিয়াকৈর
থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণার
সৎ বাবা মশিউর তাকে হত্যার পর তিনি পালিয়ে গেছেন। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের
জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

0 facebook: