![]() |
কয়েকঘন্টা
পরেই শুরু হবে ‘থার্টি
ফার্স্ট নাইট’ ইংরেজি
নববর্ষ ২০২০। ইংরেজী নববর্ষ পালন করা মুসলিম উম্মাহর জন্য সম্পূর্ণ হারাম। ইংরেজী নববর্ষের
সাথে মুসলমানদের কোন সম্পর্ক নাই। খৃষ্টানদের অনুকরণে ইংরেজী বছর শেষে পরবর্তী নববর্ষের
রাত তথা ‘থার্টি
ফার্স্ট নাইট’ (১২টা
১ মিনিট) পালন সম্পূর্ণ হারাম কাজ। কারণ, এ রাতে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে অশ্লীলতা-নগ্নতা
ও বেলেল্লাপনার বন্যায় প্লাবিত হয়। মদ পান, ছেলে মেয়ের যৌন উম্মাদনাসহ বিভিন্ন অনৈতিক, কর্মকান্ডের
ও নোংরা অনুষ্ঠান করে ইংরেজী নববর্ষকে বরণ করান হয় (স্বাগত জানানো হয়)।
যা ইসলামে
অত্যন্ত ঘৃণ্য ও গর্হিত কাজ। ইসলামে নৈতিকতাহীন ক্রিয়া কর্মের অশ্লীল উপভোগ নেই। বেহায়াপনা, অশ্লীলতা
ও নোংরামীকে ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। ইংরেজী নববর্ষ তথা ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ ইসলামে
অবৈধ এবং এটা খৃষ্টানদের সংস্কৃতি। থার্টি ফার্স্টে অসামাজিক কার্যকলাপ বহুগুণে বেড়ে
যায়। জাতীয় পত্র পত্রিকার শিরোনামের অনেকটাই দখল করে থাকে থার্টি ফার্স্ট নাইটের রমরমা
কাহিনী। পর্ণো মুভি, নেশাদ্রব্য, আপত্তিকর
নাচ-গানসহ বিভিন্ন বেহায়ামিপূর্ণ কীর্তিকলাপ দ্বারা থার্টি ফার্স্ট উদযাপন গত কয়েক
বছর ধরেই বাংলাদেশে চলে আসছে। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, দশক আগে
কেউ এ দিবস এহেনভাবে উদযাপন করতেন না। কিন্তু ভিনদেশের সংস্কৃতি আমাদের দেশের দালাল
মিডিয়া আমদানি করতঃ আমরা আজ এ দিবসগুলোতে শরীয়ত বিরোধী ও গোনাহের কাজে লিপ্ত হয়ে ঈমানদারগণ
তাদের ঈমান- আমলকে বিনষ্ট করছে। থার্ট ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর হোটেল, নাইট
ক্লাব ও উদ্যানগুলো জেনা ব্যভিচারের বাজার বসে। নাচ গান, মদ ও নেশা
খেয়ে এক তরুণ অপর তরুণীর পবিত্র সতীত্বকে ভোগ করে। এর প্রমাণ গত বছরগুলির প্রকাশিত
বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্র। বিভিন্ন হোটেল ও স্পটগুলোতে অচেতন অনেক যুবতীদের বীভৎসরূপে
পাওয়ার ছবিও জাতীয় দৈনিকে এসেছে।
কাফেরদের
সংস্কৃতি হওয়া স্বত্বেও প্রতি বছর এই দিবসটি মুসলিম নামধারী যুবক যুবতীরা পালন করে
থাকে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে তারা অনেক সময় উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে, করে হাজারো শরীয়তের
সীমালঙ্ঘন। অশ্লীলতা ও নোংরামীতে লিপ্ত হয়ে পড়ে। এটা মুসলমানী কোন সভ্যতা, সংস্কৃতি
হতে পারে না। বরং এটা একটি অপসংস্কৃতি। ইহুদী খৃষ্টানদের কালচারকে মুমিন মুসলমানরা
আজ অনুসরণ করছে। থার্টি ফার্স্ট নাইট বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ এবং অশ্লীলতার মহাপ্লাবন।
এটা বিজাতীয় সংস্কৃতি। একজন ঈমানদার মুসলমান ও রুচিশীল-সচেতন মানুষ কিভাবে বিজাতীয়
সংস্কৃতি ও বেহায়াপনাকে সমর্থন করে তা বোধগম্য
নয়।
থার্টি
ফার্স্ট নাইট বা পহেলা জানুয়ারি পালনের ইতিহাস পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাথে সম্পৃক্ত
নয়। এটা পালন করা মুসলমানদের কাজ নয়। ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে রোম
সম্রাট জুলিয়াস সিজার সর্বপ্রথম ইংরেজি নববর্ষ উৎসবের প্রচলন করে।
সাধারণভাবে
প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জমশীদ খ্রিস্টপূর্ব ৮০০ সালে এই নববর্ষের প্রবর্তন করেছিলো
এবং এরই ধারাবাহিকতায় এখনো পারস্য তথা ইরানে নওরোজ ঐতিহ্যগত নববর্ষের জাতীয় উৎসব হিসেবে
পালিত হয়। ইরান থেকেই এটা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং ভারত উপমহাদেশে প্রবেশ
করে। নাউযুবিল্লাহ!
থার্টি
ফার্স্ট নাইট বা পহেলা জানুয়ারি নববর্ষের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট হয় ১৫৮২ সালে গ্রেগরিয়ান
ক্যালেন্ডার প্রবর্তনের পর। আর পরবর্তীতে ধীরে ধীরে শুধু ইউরোপে নয়, সারাবিশ্বের
বিভিন্ন দেশে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নববর্ষ পালন করার অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে
এবং তা পালন করা হচ্ছে।
ইমাম
হযরত আবু হাফস কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নওরোজ বা নববর্ষ উপলক্ষে যদি কেউ একটা ডিমও
দান করে তাহলে তার ৫০ বৎসরের আমল থাকলেও তা বরবাদ হয়ে যাবে। অর্থাৎ নওরোজ বা নববর্ষ
পালনের কারণে তার জিন্দেগির সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে যাবে।
আজকে
অনেক মুসলমান থার্টি ফার্স্ট নাইট পালন করবে। ইংরেজি নববর্ষ, ফসলী
সনের নববর্ষসহ বিভিন্ন নববর্ষ পালন করছে। আর এতে করে তারা বিজাতি ও বিধর্মীদের সাথেই
মিল মিশ রাখছে। তাদেরই অনুসরণ অনুকরণ করছে।
কালামুল্লাহ
শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “নিশ্চয়ই
সমস্ত প্রাণীর মাঝে আল্লাহ পাক উনার নিকট কাফিররাই নিকৃষ্ট, যারা
ঈমান আনেনি।” (সূরা
আনফালঃ আয়াত শরীফ ৫৫) আর নববর্ষ পালনের দ্বারা সে কাফিরদেরই অনুসরণ-অনুকরণ করা হয়।
হাদীছ
শরীফ-এ তাদের ব্যপারে ইরশাদ হয়েছে,
“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে
বর্ণিত। আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ
করেন, যে
ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের
সাথেই হবে।” (সুনানে
আহমদ, সুনানে
আবূ দাউদ)
এছাড়াও
হযরত আবু উমামা বাহেলী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া-সাল্লাম বলেছেনঃ “যে
ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কৃষ্টি-কালচারের অনুকরণ করবে, সে তাদের
অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে এবং যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়কে মুহব্বত করবে, তাদের
সাথে তার হাশর হবে।” –
(সুনানে আবু দাউদঃ হাদীস নং ৩৫১৪)
ইতিহাস
এটাই প্রমাণ করে যে, সব
নববর্ষের প্রবর্তকই বিধর্মীরা। তাই ইসলাম নববর্ষ পালনকে কখনোই স্বীকৃতি দেয় না।
এছাড়াও
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী থার্টি ফার্স্ট নাইট ও ১লা জানুয়ারি (নববর্ষ) পালনের বৈধতাঃ
সংবিধানের
৩ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে,
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সে প্রেক্ষিতে দেশে ইংরেজি ভাষাসহ
বিভিন্ন উপজাতীয় ভাষার ঊর্ধ্বে যেমন রাষ্ট্রভাষা বাংলার মর্যাদা ও প্রাধান্য তেমনি
সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের কথা স্বীকারের প্রেক্ষিতে অন্যান্য
ধর্ম ও ধর্মাবলম্বীর উপরে ইসলাম ও মুসলমানের মর্যাদা ও প্রাধান্য স্বীকৃত হওয়া আবশ্যক
এবং ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও অনেক বেশি হওয়া কর্তব্য। যা মূলত
প্রচলিত সংবিধানেরই ব্যাখ্যা।
মূলকথা
হলো- সংবিধানের ২ নম্বর ধারায় বর্ণিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম-এর স্বীকারের প্রেক্ষিতে বিজাতীয়
সংস্কৃতী থার্টি ফাস্ট নাইটসহ কোন ইসলাম বিরোধী কাজ গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা। ৯৫ ভাগ
মুসলমানের দেশের সরকারের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- সরকারীভাবে থার্টি ফাস্ট নাইটসহ
সকল ইসলাম বিরোধী কাজ বন্ধ করে দেয়া এবং সরকারীভাবে থার্টি ফাস্ট নাইটসহ সকল ইসলাম
বিরোধী কাজ থেকে মুসলমানদের বিরত রাখা অর্থাৎ মুসলমানদেরকে ইসলাম পালনে বা ইসলামের
উপর ইস্তিক্বামত থাকার ব্যাপারে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করা।
মুহম্মদ
রাজিব খাজা। সম্পাদক, দৈনিক সুবহে সাদিক।

0 facebook: