![]() |
হাসান
বিন মুমিন।। আহলে হাদিস পন্থী,
জামাতি মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী লাকসাম উপজেলার মুদাফফরগঞ্জ
বাজারের দক্ষিণে চিকুনিয়ার ঐতিহাসিক বালুর মাঠের ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও
সে তা করতে পারে নি।
সোমবার
বাদ যোহর এ মাহফিল আয়োজন করা হলেও তৌহিদী মুসলিম জনতার কারনে প্রশাসনের বাধায় বক্তব্য
রাখতে পারেনি কথিত বিতর্কিত মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী। এদিকে সারাদেশের সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমেও তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানান আলোচনা সমালোচনা।
অসংখ্য
অগণিত মুফতি মুহাদ্দিসের ফতোয়া মতে,
মিজানুর রহমান আজহারি তার কৃত কুফুরির কারনে কাফির, মুরতাদ
ও মুনাফিকে পরিনত হয়েছে। তাকে কতল করা ফরজ বলেও ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে অসংখ্যার।
বাংলাদেশের
তৌহিদী মুসলিম জনতা তার কুফরি বাক্যের ব্যবহারে অতিষ্ট। সে মহান আল্লাহ পাক, রসূলাল্লাহ
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল
মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, খোলাফায়ে
রাশেদিন হযরত
আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত
উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাদের সবাইকে গালিগালাজ করে উনাদের শানে চরম বেয়াদবি
করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! উনাদের সমালোচনা করেছে। নাঊযুবিল্লাহ! উনাদের দোষারোপ করেছে।
নাঊযুবিল্লাহ! এতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে চারিদিকে।
তার কৃত
কিছু অনৈসলামিক বাক্য নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ
১) আল্লাহ
হালায় কুরআন পাঠাইছে নবীর ঘাড়ে। নবী হালায় বয়ান দিছে সাহাবাগোর মাঝে। আমরা হালায় বয়ান
দিয়া যাইতাছি হালায়। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/34QSCNN)
২) বিশ্বনবীর
মাক্কী ইনিংসের খেলার নিয়ম ছিল ঠেক দিয়ে খেলতেন। ক্রিকেটে বলে উইকেট বাঁচায়ে খেলতে
হবে তোমায়। উইকেট যাতে পরে না যায়। বিশ্বনবী ঠেকায়ে ঠেকায়ে খেলছেন আর চার-ছক্কা মারছেন
সব মাদানি ইনিংসে। (http://bit.ly/2RfG2Ui)
৩) মদ
খাওয়ার পরে উমরের ছেলে আবু শাহামা টাল হয়া গেছিল। উমর ফারুকরে কয়, আবে হালায়
আব্বা তুমি কেমন আছো? তোমারেতো
হালায় আমি চিনবার পারছিনা। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/34QSCNN)
৪) খাদিজা
ছিল বুড়ি, তালাক
প্রাপ্তা, প্রৌঢ়া।
ইনটেক্ট না, ভার্জিন
না, ৪০
বছরের বিধবা মহিলা। নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/2DLGEcj)
৫) নবীজী
মূর্খ ছিলেন, তাঁর
অক্ষরজ্ঞান ছিল না। তিনি ছিলেন নিরক্ষর। আল্লাহ তাকে অক্ষরজ্ঞানের শিক্ষা দেয়নি। নাঊযুবিল্লাহ!
(http://bit.ly/2PgUZmr)
৬) হযরত
আলী মদ খেয়ে মাতাল হয়ে নামাজে দাঁড়ায়ে সূরা ভুল পড়েছিল। হযরত উমর ছিলো মদুড়িদের রাজা।
নাঊযুবিল্লাহ! (http://bit.ly/2Lp55Ar)
কিন্তু
এদিকে মিজানুর রহমান আজহারি নিজেকে ফিরাউনের ভাতিজা বলেও দাবী করেছে। ফিরাউন নাকি তার
চাচা। (http://bit.ly/2rWUGFa)
তার এইসব কুফুরি বক্তব্যের বিপরীতে আল কুরআন ও হাদিস শরীফে কি কি বলা হয়েছে তার যৎসামান্য মুসলিম উম্মাহর খেদমতে তুলে ধরা হলো।
অন্যান্য
মহিলাদের ব্যাপারে যে সমস্ত শব্দ বলা যায় – হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম
উনাদের শানে সেসমস্ত বাক্য প্রয়োগ করা যায় কি না।
এই ব্যাপারে
মহান আল্লাহ পাক উনি হযরত উম্মাহাতুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শানে মুবারক
আয়াত নাযিল করে বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিলেন,
يا زوجات الرسول! أنت لست مثل النساء الأخريات ؛
অর্থঃ
হে নবী পত্নীগণ! আপনারা অন্য নারীদের মত নন। (সূরা আল আহযাব, আয়াত
নং ৩২) অর্থাৎ হযরত উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা যমিনের কোন মহিলাদের মত
নন। উনাদের মর্যাদা সমস্ত মুমিন মহিলাদেরও ঊর্ধে।
হাদীছ
শরীফে রসূলাল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিনি আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস
সালাম উনাদের (উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত) স্মরণ
করিয়ে দিয়ে বলেন,
أذكركم الله في أهل بيتي
অর্থঃ
আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। (সহীহ মুসলিম, হাদীছ
নং ২৪০৮)
মহান
আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতা ঘোষণা করে জানিয়ে
দিয়েছেন,
يا عائلة النبي! الله يريد فقط إزالة الشوائب منك وتنقيتك تمامًا.
অর্থঃ
হে নবী পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে
সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে। (সূরা আহযাব, আয়াত নং ৩৩)
এরপরেও
যারা উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অন্যান্য মহিলাদের মত মনে করে উনাদের
সমালোচনা করে তারা নিঃসন্দেহে পথভ্রষ্ট জাহেল।
এবার
আসুন দেখি রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস
সালাম উনার শান-মানে কি ইরশাদ করেছেন।
حدثنا هارون بن إسحق حدثنا عبدة بن سليمان عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة قالت ما غرت على امرأة قط ما غرت على خديجة مما رأيت من ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم لها ولقد أمره ربه أن يبشرها ببيت في الجنة من قصب يعني من ذهب قاله ابن ماجة.
হযরত
আয়িশা আলাইহাস সালাম উনার উনার থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি হযরত
খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উনার ক্ষেত্রে যে আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধি করতাম, তদ্রূপ
অপর কোন নারীর ক্ষেত্রে অনুভব করতাম না। কেননা আমি রসূলাল্লাহ (ছল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়া সাল্লাম) উনাকে প্রায়ই হযরত খাদিজা কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উনার কথা উল্লেখ করতে
দেখেছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত
খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার উনার জন্য জান্নাতে স্বর্ণ নির্মিত একটি প্রাসাদের
সুসংবাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সহীহুল বুখারী ৩৮১৬, মুসলিম
২৪৩৪, ২৪৩৫, তিরমিযী
২০১৭, ৩৮৭৫, ৩৮৭৬, আহমাদ
২৩৭৮৯, ২৫১৩০, ২৫৮৪৭, বায়হাকী
৭/৪১২)
হযরত
খাদিজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার তিনি ছিলেন হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম
উনার সম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম এবং হযরত হাসান-হুসাইন আলাইহিমুস সালাম উনাদের
সম্মানিত নানীজান আলাইহাস সালাম। আর হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে,
فاطمة هي زعيمة نساء الفردوس وحسن وحسين قادة شباب الجنة
অর্থঃ
ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম তিনি জান্নাতের নারীদের নেত্রী এবং হাসান ও হুসাইন আলাইহিমুস
সালাম জান্নাতের যুবকদের নেতা। (জামে আত তিরমিজি, হাদীছ নং ৩৭৮১)
খবর বিভাগঃ
ইহুদীদের চক্রান্ত
জাতীয়
ধর্ম
মতামত

0 facebook: