![]() |
আন্তর্জাতিক
ডেস্ক।। বুধবার সকালে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে নাগরিকত্ব বিলে অনুমোদন দেয় নরেন্দ্র মোদী
সরকার। তারপর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এর মধ্যেই এই বিল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে
ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বলে উল্লেখ করল জনপ্রিয় ভোজপুরী নায়ক তথা গোরক্ষপুরের বিজেপি
সাংসদ রবি কিষণ।
এদিন
বিল অনুমোদন হয়ে যাওয়ার পর সংসদের সামনে দাঁড়িয়ে রবি কিষণ বলে, “ভারতে
হিন্দুদের জনসংখ্যা ১০০ কোটি। তাই ভারত হিন্দু রাষ্ট্র। অনেক মুসলিম ও খ্রিস্টান দেশ
রয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের (পড়ুন হিন্দুদের) সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য
ভারত নামে একটা দেশ রয়েছে।”
সে প্রশ্ন তোলে,
“যদি মুসলিম অথবা খ্রিস্টান দেশ থাকে তাহলে হিন্দু রাষ্ট্র হবে না
কেন?” সে
আরও জানায়, এই
বিল অনুমোদনের পরে বিরোধীরা ‘উন্মাদ’ হয়ে গিয়েছে।
এই বিলের
প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলে, “আমার মনে হয় এই বিল অসাংবিধানিক, কারণ
এই বিলে ভারতের সংবিধানের মূল বিষয়ই মানা হয়নি। এটা তারা করেছে যারা মনে করে ধর্ম অনুযায়ী
দেশ তৈরি হয়। পাকিস্তান তৈরির পিছনে এই কারণই ছিল।” বিরোধীদের দাবি ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের
মানুষকে হেনস্থা করার জন্যই এই বিল নিয়ে এসেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
বুধবার
সকাল সাড়ে ন’টা
নাগাদ মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। ওই বৈঠকে নাগরিকত্ব সংশোধন বিলের খসড়া পেশ করে কেন্দ্রীয়
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। পরে সরকারি সূত্রে জানানো হয়, প্রস্তাবিত
সংশোধন বিলে অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এও জানা যায়, মন্ত্রিসভার
বৈঠকে অমিত শাহ ও প্রধানমন্ত্রী দু’জনেই
বলে সংসদের ভিতরে এমন ভাবে কক্ষ সমন্বয় করে চলতে হবে যাতে চলতি শীত অধিবেশনেই তা লোকসভা
ও রাজ্যসভায় পাশ করানো যায়।
প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব
সংশোধন বিলের মূল বক্তব্য হল,
প্রতিবেশি দেশগুলি থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, জৈন, পারসি
ও শিখ শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে
সোমবারই সংসদে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছে যে, অনুপ্রবেশকারীদের
ভারতে থাকতে দেওয়া হবে না। সবাইকে বহিষ্কার করা হবে। সেই সঙ্গে অমিত শাহ এও জানিয়েছে, ২০২৪
সালের মধ্যে গোটা দেশে জাতীয় পঞ্জিকরণ তথা ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বাস্তবায়িত
হবে। আবার গতকাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিল, নাগরিকত্ব
সংশোধন বিল দ্রুত পাশ করানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারের বিষয়।
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক
ধর্মীয় বিদ্বেষ
ভারত
হিন্দু সমাচার

0 facebook: