![]() |
এর আগে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে উগ্রহিন্দুত্ববাদী ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব
আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করার সময় জামিয়ার শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছিল উগ্রহিন্দুত্ববাদী
পুলিশ। তখন এ নিয়ে গোটা ভারত জুড়ে মুসলমানদের প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়। প্রতিবাদে এসেছিল ভারতের বাইরে থেকেও,
বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে।
সোমবার দুপুরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে মিছিল করে
সংসদ ভবনের দিকে যেতে চেয়েছিলেন জামিয়ার মুসলিম শিক্ষার্থীরা। ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন
জামিলা মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া, সাবেক
শিক্ষার্থী
ও দিল্লির আশপাশের এলাকার মুসলমানরা।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের মিছিলে উগ্রহিন্দুত্ববাদী পুলিশ বাধা দিলে দু পক্ষের মধ্যে
হাতাহাতি শুরু হয়। এসময় কয়েকজনকে আটক করে উগ্রহিন্দুত্ববাদী দিল্লি পুলিশ। শুধু তাই নয়, চোরাগুপ্তা হামলা হয়
মুসলিম মিছিলকারীদের ওপর। গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাতের জেরে জামিয়ার দশ মুসলিম নারী শিক্ষার্থীকে
প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের
হেল্থ
সেন্টারে ভর্তি করতে হয়। কয়েকজনের আঘাত মারাত্মক হওয়ায় তাদের আল শাইফা হাসপাতালে
স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা। তাদের মধ্যে একজন আইসিইউ-তে
রয়েছেন। বুকে, গোপনাঙ্গে
লাঠির ঘায়ে কয়েকজনের ‘অভ্যন্তরীণ
আঘাত’ হয়েছে
বলেও মনে করছেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর উগ্রহিন্দুত্ববাদী দিল্লি পুলিশের দিকে।
হেল্থ সেন্টারে ভর্তি এক ছাত্রী জানান, ‘প্রথমে ধাক্কা মেরে ফেলে
দিয়ে বুট দিয়ে গোপনাঙ্গে আঘাত করা হয়। পরে এক মহিলা পুলিশ আমার বোরখা টেনে খুলে দেন। লাঠি দিয়ে গোপনাঙ্গে
আঘাত করেন।’
আর এক ছাত্রীর দাবি, ক্যামেরা থেকে আড়াল করতে কোমরের নিচের দিক লক্ষ্য করে লাঠি চালানো হয়। তার কনুই
ও তলপেটে আঘাত
লেগেছে। ছাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে এক ছাত্র পুলিশের লাঠি-বুটের আঘাতে দু’বার অজ্ঞান হয়ে যান বলেও
অভিযোগ। ঘটনার জেরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।
সোমবার জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বার থেকে মিছিল
শুরু হয়। প্রতিবাদীদের মুখে ছিল ‘কাগজ
নেহি দেখায়েঙ্গে’, ‘হল্লা বোল’ স্লোগান। কিন্তু বেশি
দূর এগোতে পারেননি তারা।
মাত্র
দু’কিলোমিটার
যেতেই মিছিলে বাধা দেয় পুলিশ। সংসদ ভবন পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি নেই বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। বাধা ভেঙে
প্রতিবাদকারীরা এগিয়ে যেতে
চাইলে শেষ ব্যারিকেডে দু’পক্ষের
মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে যায়।
কয়েকজন
লাফিয়ে ব্যারিকেড টপকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন দু পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
দাঙ্গারোধী পোশাক পরা পুলিশদের দেখা যায় তাদের বাধা দিতে। এরপর
কয়েকজন প্রতিবাদীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে রাজধানীতে প্রায় দু’মাসের কাছাকাছি মূল
প্রতিবাদ চলছে শাহিনবাগে। কিন্তু তারই সঙ্গে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, জাফরাবাদ-সহ নানা এলাকায় বিক্ষোভ-মিছিল চলছে পুরোদমে। ডিসেম্বরে
সংসদে ওই আইন পাস হওয়ার পর থেকেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রসঙ্গত,
গত
১৫ ডিসেম্বর বিক্ষোভ প্রতিবাদে
উত্তাল হয়েছিল জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মুসলিম বাসিন্দারা। হাজারো
মুসলিম বিক্ষোভকারীরা সংসদে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মথুরা রোডে পুলিশ তাদের থামিয়ে দেয়।
এমনকি পুলিশ বাহিনী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। এসময় মিছিলকারীদের ওপর পুলিশ গুলি
চালায় বলেও অভিযোগ
রয়েছে। এই বিক্ষোভের কয়েক ঘন্টা পরে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার গুলিবিদ্ধ তিন
শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এমনকি জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া
বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের ভেতরে ঢুকেও শিক্ষার্থীদের ওপর নির্বিচারে হামলা
চালিয়েছিল পুলিশ।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা ভারত। শুধু
ভারত নয়, প্রতিবাদ
এসেছিল নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যেসহ
বিভিন্ন দেশ থেকেও।
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক
ভারত

0 facebook: