Monday, February 17, 2020

প্রকাশ্যে সিগারেট, সিসা টানছে সৌদি নারীরা!


আন্তর্জাতীক ডেস্ক।। পশ্চিমা তথাকথিত নারীবাদীদের মতো প্রকাশ্যেই সিগারেট ফুঁকছে সৌদি আরবের নারীরা। মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দেশে এমন সব কর্মকাণ্ডে চলছে তুমুল সমালোচনা। রোববার সৌদির স্বাধীনচেতা নারীদের নিয়ে এ সরেজমিন প্রতিবেদন তৈরি করেছে এএফপি। বছরখানেক হল প্রকাশ্যে ধূমপান করছে সৌদি নারীরা। সৌদিতে এমন দৃশ্য অকল্পনীয়। প্রকাশ্যে সিগারেট, সিসা টানছে নারীরা। এমনকি এবারই প্রথম ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসপালন করেছে তারা। যদিও পশ্চিমা মিডিয়া এটিকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

রিয়াদের একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত ২৭ বছর বয়সী নারী রিমার মুখেও এটাকে নারী স্বাধীনতা বলতে শোনা গেল। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে সিগারেট টানা আমার সদ্য পাওয়া স্বাধীনতারই অংশ বলে মনে করি আমি। পছন্দের কাজটা করতে পারছি বলে আমি এখন সুখী। ঐতিহ্যবাহী লম্বা ও কালো পোশাক আবায়া ও এর সঙ্গে মানিয়ে হিজাব পরিহিত রিমা বলেন, ‘আমি তাদের বলব না এটা আমার ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়। কারণ তারা বুঝবে না যে নারীরাও পুরুষের মতো সিগারেট খাওয়ার মতো মুক্ত। রিমার পাশেই তার মতোই ২৬ বছর বয়সী আরেক নারী নাজলা বলেন, দ্রুত সামাজিক পরিবর্তন সত্ত্বেও সমাজে এখনও অনেক ভণ্ডামি চলছে।  নারীদের ধূমপানকে এখানে এখনও কেলেঙ্কারি আর অসম্মানেরবলে বিবেচনা করা হয়।

বলতে বলতেই ক্যাফেতে বসে থাকা বেশ কয়েকজন পুরুষের মধ্যেই সিগারেট জ্বালালেন। এরপর একটু ঔদ্ধত্যের সঙ্গেই বললেন, সমাজের এসব ভণ্ডামিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান তিনি। সৌদির বিভিন্ন শহরে বহু আগে থেকেই সিগারেট বা এজাতীয় দ্রব্য বিক্রি ও প্রকাশ্যে ধূমপান করা নিষিদ্ধ। তবে ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে সারা সৌদিতে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে ধূমপান শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য।

প্রকাশ্যে কাউকে ধূমপানরত অবস্থায় দেখা গেলে ২০০ রিয়াল জরিমানা করা হয়। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অন্যান্য দেশের মতোই এখানেও ধূমপান একটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে সেটা কেবল পুরুষদের বেলায়।

ইসলাম বিদ্ধেষী পশ্চিমা বিশ্ব বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইহুদীবাদী ইসরালের সঙ্গে জোর সম্পর্কের ওপর ভর করে সৌদি উচ্চাভিলাষী শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দেশকে মধ্যপন্থী ও ব্যবসাবান্ধব করে গড়ে তুলতে বেশকিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের সূচনা করেছে।

তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর লক্ষ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন নানাভাবে সমালোচিত বিন সালমান। তারই অংশ হিসেবে দেশটিতে বিনোদন ও পর্যটনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তার এই ভিশন-২০৩০ এর অধীনেই সৌদি নারীরা এখন গাড়ি চালানো, স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখা এমনকি হাজার হাজার পুরুষের মধ্যে কনসার্ট গানের অনুষ্ঠানেও যেতে পারে। এছাড়া পুরুষ অভিভাবক ছাড়াই তারা পাসপোর্ট বিদেশে পাড়ি দেয়া এমনকি একাকি হোটেলে রাত কাটানোর মতো কাজগুলোও করতে পারছে।

২০১৭ সালে মোহাম্মদ বিন সালমানকে সৌদি আরবের যুবরাজ করা হয়। তারপর থেকে সৌদি আরবে ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত পদক্ষেপ নেয়া শুরু করে সে


শেয়ার করুন

0 facebook: