![]() |
স্টাফ রিপোর্ট।। সেন্টার
ফর সোশ্যাল অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিসা) আয়োজিত আলোচনা সভায়
একাত্তর টিভির কর্ণধার মোজাম্মেল বাবু বলেন, বাংলাদেশে
২০টির
বেশি টেলিভিশনের দরকার নাই। কিন্তু সরকার লাইসেন্স দিয়েছে ৪০টি। এতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এভাবে
আমাদের শক্তি কমিয়ে ফেলা হচ্ছে। মূলধারার মিডিয়ায় ছাঁটাই চলছে। আবার সরকারের কাজ মিডিয়ার টুঁটি চেপে ধরা
নয়, কিন্তু সত্য প্রচারেরও টুঁটি
চেপে ধরা হয়। একটি নিউজ অন এয়ার করা হলে স্টাবলিশার (সরকার) থেকে বলা হচ্ছে, থামান। লাইনে লাইনে সংশোধন করতে হচ্ছে। আমাদের ওপর আস্থা নেই স্টাবলিশারের।
কিন্তু আপনি কিছু না দেখালে গুজব আরও বেশি ছড়াবে।
মতিঝিলে হেফাজতের তান্ডবের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের প্রথমে লাইভ বন্ধ করতে বলা হলো, আমরা মিনিটে মিনিটে
দেখালাম। যারা বন্ধ করতে
বলেছিল, পরে তারাই আবার ফুটেজ
চেয়েছিল। গুজব বন্ধ করতে হলেও সত্যটাই প্রকাশ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের সময় কেউ কি বলতে পারবো কোথাও ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়নি? একটা ঘটনা ঘটলেই হলো। আমাদের
নিউজ বন্ধ করতে বলা হচ্ছে।
কেন্দ্রে বিএনপি বা সরকারি দলের প্রতিপক্ষের এজেন্ট নেই, এটা লাইভ দেখাতে নিষেধ করা হলো, দেখানো যাবে না। কিন্তু
আমরা যদি ওই এজেন্টকে খুঁজে
বের
করে দেখাই যে, সে
বাসা থেকে বের হয়নি, কেন্দ্রে
আসবে কীভাবে? এতে
কি স্টাবলিশার
(সরকার) লাভবান হতো না?
আজ
আইপি-টিভি নিয়ন্ত্রণে নাই। অথচ
আমাদের
জবাবদিহি করতে হচ্ছে।
জিটিভি ও সারাবাংলা ডটনেটের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
বলেন, কোথায়
সন্ত্রাসী আটক বা গ্রেফতার হলে
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে জেহাদি বইসহ যোদ্ধা আটক হয়েছে। কিন্তু এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করলে সন্ত্রাসীবাদকে এক ধরনের উদ্বুদ্ধ করা হয়। তিনি
আরও বলেন, সবাই
রেসপনসিবল জার্নালিজম করতে বলেন,
কিন্তু
গুড ডেমোক্রেসির কথা বলেন না। গুড ডেমোক্রেসি না হলে গুড জার্নালিজম হবে না।
সিনিয়র সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের মূলধারার মিডিয়াগুলো এখন আর
ধর্ষণের শিকার নারীর ছবি প্রচার করে না। অনেক ক্ষেত্রে পরিচয় ছাপা হয় না। এ
ক্ষেত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে।
মাছরাঙ্গা টিভির হেড অব নিউজ রেজওয়ানুল হক রাজা বলেন, হলি আর্টিজানের সময় নিবরাজদের ৫ জনের
হাসির ছবি অনেক মিডিয়ায় ছাপা হয়েছে। সেটা ছাপা ঠিক হয়নি। একজন বক্তা মাওলানা দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদীর সুনাম ও নারী
নেতৃত্ব বিরোধী
কথা বলে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেলেন। এটা নিয়ে আপনাদের কাজ করতে হবে।
এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ জ ই মামুন বলেন, জঙ্গিবাদ দমনে সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের
ভূমিকা বাড়াতে হবে। পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হবে। ২০১৫ সালের প্যারিস হামলার পর এক থেকে দেড়
কিলোমিটারের মধ্যে পুলিশ
কাউকে এমনকি এমপি-মন্ত্রী-রাষ্ট্রপতিকেও ঢুকতে দেয়নি। আমাদেরও এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে
হবে।
এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল আলম বলেন, মিডিয়ার নিজেদের পক্ষ
থেকে বেশি কিছু
করার থাকে না। কারণ আমরা নানা সংকটে থাকি। সিটিটিসি যদি মিডিয়ার জন্য গাইডলাইন তৈরি করে, তাহলে ভালো হতো। তিনি
আরও বলেন, কোটা
সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে
একটি সহিংস ঘটনার কথা মনে আছে। যেটা মূল ধারার মিডিয়ায় না এলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কিন্তু
ছড়িয়ে পড়ে।
ডিবিসি নিউজের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে
গণমাধ্যমের স্থায়ী
বোঝাপড়া থাকবে। সন্ত্রাসীবাদ
গবেষণা রাষ্ট্রীয় গবেষণার চেয়ে অগ্রগামী, সেভাবেই তারা সামনে এগিয়ে যায়। বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুলের এখনও সন্ত্রাসী রিক্রুট হচ্ছে। আধুনিক
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সন্ত্রাসী
রিক্রুট হচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণ
করতে গিয়ে যেন ধর্মপ্রচার বন্ধ না হয়। গণমাধ্যমের চেয়েও বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম।
একুশে টিভির মোস্তফা মহসীন আব্বাস বলেন, আমরা কোনও টেররকে হিরো
বানাবো না। আমাদের
বেসরকারি টেলিভিশন শিল্পের বয়স মাত্র ২০ বছর। এটা খুবই কম সময়। আমাদের এই শিল্পের নীতি
নির্ধারণ নিয়ে এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
খবর বিভাগঃ
জাতীয়

0 facebook: