আন্তর্জাতীক ডেস্ক।। সম্প্রতি উগ্রহিন্দুত্ববাদী ভারতের রাজধানী শহর নয়াদিল্লীতে মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএর প্রতিবাদ করায়
দেশটির উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে
সহস্রাধিক মুসলমান। তাদের অনেকেই শরণার্থী শিবিরে জায়গা না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে। সম্প্রতি তুরস্কভিত্তিক
সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এমনি তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন নয়াদিল্লীর শিববিহার জেলার বাস্তুচ্যুত হাসিনা
বেগম। গত বুধবার (১১ মার্চ)
পর্যন্ত
তারা স্থানীয় একটি হাসপাতালে বাস করছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হাসপাতাল ছাড়তে
বললে শরণার্থী শিবিরে গিয়ে কোনো জায়গা খুঁজে পাননি ৫৬ বছর বয়সী এই নারী।
তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা কোথাও যাওয়ার জায়গা না পেয়ে
কাঁদতে কাঁদতে
বলেন, “আমি আমার বৃদ্ধ শ্বশুর- শ্বাশুড়িকে নিয়ে কোথায় যাব? আমার শ্বাশুড়ি ৭৭ বছর বয়সী এবং আমার শ্বশুড়ের বয়স ৮৬ বছর। ইতিমধ্যে আমাদের সাথে যা ঘটেছে তা দেখে উভয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় আমি তাদের সাথে নিয়ে কোথায় যাব? ”
বলেন, “আমি আমার বৃদ্ধ শ্বশুর- শ্বাশুড়িকে নিয়ে কোথায় যাব? আমার শ্বাশুড়ি ৭৭ বছর বয়সী এবং আমার শ্বশুড়ের বয়স ৮৬ বছর। ইতিমধ্যে আমাদের সাথে যা ঘটেছে তা দেখে উভয়েই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এই অবস্থায় আমি তাদের সাথে নিয়ে কোথায় যাব? ”
হাসিনার মতো আরো অনেক নিঃস্ব পরিবার শরণার্থী শিবিরে গিয়ে ভিড়
করলেও
সেখানে তাদেরকে জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
সেখানে তাদেরকে জায়গা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।
দিল্লী
ওয়াকফ বোর্ড জানিয়েছে,
উত্তর-পূর্ব
নয়াদিল্লীর মুস্তাফাবাদ
ঈদগাহ্
ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত ৮১৬ জন নিবন্ধন করেছেন। সম্প্রতি আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদক যখন
শিবিরটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তখন স্বেচ্ছাসেবীরা শিবিরের ভিড় বেশি হওয়ায় আগত বাস্তুচ্যুতদের বিকল্প জায়গা
খোঁজার জন্য ঘোষণা
দিচ্ছিলেন। কিন্তু কোথায় যাবেন হিন্দুত্ববাদীদের হামলার শিকার এই মুসলমানরা! তাদের সামনে
অনিশ্চয়তা ও হতাশার এক নদী। আশার স্বপ্ন তাদের কূলহারা।
উল্লেখ্য,
সম্প্রতি
ভারতের উগ্র হিন্দত্ববাদী বিজেপি সরকারের তৈরি করা মুসলিম বিরোধী নাগরিকত্ব আইন সিএএ-র প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে দিল্লীতে মুসলমানদের উপর নির্বিচারে নৃশংস হামলা করে হিন্দুত্ববাদীরা। এসময় মুসলমানদের বাড়িঘর
পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পবিত্র মসজিদে অগ্নিসংযোগ করে মিনারে হনুমানের পতাকা টানানো
হয়। দিল্লীর এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে
সরকারি হিসাব মতে ৫৩ জন
প্রাণ হারায় এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়।
সূত্র: আনাদুলো এজেন্সি
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক
ভারত
মুসলিম নির্যাতন

0 facebook: