আন্তর্জাতীক ডেস্ক।। কারাগার
থেকে পাঁচ হাজার তালেবান বন্দিকে
মুক্তি
দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। শনিবার কাতারে
তালেবানদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল এই বন্দি মুক্তি।
রোববার রাজধানী কাবুলে সাংবাদিকদের আশরাফ গনি বলেন, ‘পাঁচ হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার
কোনো প্রতিশ্রুতি আফগানিস্তান সরকার দেয়নি।’
তালেবানের সঙ্গে ১৮ বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দুই হাজারের
বেশি সেনা নিহত
হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান
থেকে সব মার্কিন সেনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই
প্রতিশ্রুতি পালনের অংশ হিসেবে তালেবানদের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে
পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
শনিবার স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তগুলোর মধ্যে ছিল, আফগানিস্তান থেকে ১৪ মাসের মধ্যে সব সেনা
প্রত্যাহার করে নেবে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো)।
১০ মার্চের মধ্যে তালেবান তাদের হাতে বন্দি এক হাজার আফগান কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মুক্তি দেবে। বিনিময়ে আফগান
সরকারকে তাদের
কারাগার থেকে পাঁচ হাজার তালেবান বন্দিকে মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া তালেবানের পক্ষ থেকে
আফগানিস্তানে আর কোনো হামলা না চালানো এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে জঙ্গি গোষ্ঠী আল-কায়েদাকে কোনো তৎপরতা
না চালানোর প্রতিশ্রুতি
দেওয়া হয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় চুক্তি স্বাক্ষরের একদিন পরে রোববার
কাবুলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট গণি।
তিনি বলেন,
৫০০০
তালেবান বন্দিকে মুক্তি দেয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি আফগান সরকার। তাছাড়া
তিনি বলেন, আফগানিস্তানের
সরকার কি করবে তা নির্ভর করে
শুধুই
আফগান সরকারের ওপর।
শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর বড় আশা দেখা দেয় যে, আফগানিস্তানে আন্তঃআফগান আলোচনার পথ
উন্মুক্ত হবে। সেখানে সব দলের মধ্যে আলোচনার মধ্যে রাজনৈতিক সঙ্কট উত্তরণ ঘটবে, শান্তি হবে টেকসই। এর আগে আফগান সরকারকে হাতের পুতুল বলে আখ্যায়িত করে
তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এসেছে তালেবানরা।
এদিকে,
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তালেবানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির বিরুদ্ধে সব
সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। অদূর ভবিষ্যতে তিনি তালেবান নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন।
খবর বিভাগঃ
আন্তর্জাতিক

0 facebook: