Sunday, December 22, 2019

"হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক" নামক চক্রান্তে হারাম বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে হওয়া জারজ সন্তানের দায় কার!


হাসান বিন মুমিন।। মুসলমানরা বসে থাকলেও বসে নেই মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইহুদীরা। এই মুহূর্তে ইহুদীদের মিডিয়া অস্ত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি বিষয় হলো 'হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক'। সরকার ও বিভিন্ন এনজিও'র অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয় দিয়ে চলা ঢাকার মাতুয়াইলে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত ঢাকার শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটটি (ICMH) সম্প্রতি 'হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক' চালু করেছে। যাদের সন্তান মারা গেছে বা সন্তানকে খাওয়ানোর পরও যেসব মায়েদের বুকের দুধ অতিরিক্ত আছে তারা চাইলে সেই মিল্ক ব্যাংকে তা দান করতে পারবে। আর যাদের প্রয়োজন তারা সেখান থেকে তা নিতে পারবে।

পশ্চিমা কাফেরদের দেশে এই জিনিস চালু থাকলেও আমাদের দেশে এই ধরনের বিষয় এবারই প্রথম শুরু এবং প্রচার ও প্রসার হচ্ছে। রিসার্চ করে পাওয়া তথ্যানুসারে মুসলিম বিশ্বের কোথাও এ ধরনের কোনও মিল্কব্যাংক নেই যা শরিয়া আইনের বৈধতা নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ওআইসি এর ইসলামি ধর্মীয় বিধান বিষয়ক বোর্ড মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী’ (International Islamic Jurist of OIC) এই মিল্কব্যাংককে হারাম ঘোষণা করেছে।

সকল ফকিহগণ একমত যে, এ রকম ব্যাংক তৈরি করা বৈধ নয়। ও, আই, সি এর ফিকাহ বোর্ড মাজমাউল ফিকহিল ইসলামীথেকে এ ব্যাপারে নিষিদ্ধের ফতোয়া দেয়া হয়েছে।

ফতোয়াটি হচ্ছে, ‘ ইসলাম দুধ সম্পর্ককে বংশীয় সম্পর্কের ন্যায় মনে করে। ইজমায়ে উম্মত হচ্ছে, বংশীয় কারণে যারা হারাম, দুধ সম্পর্কের কারণেও তারা হারাম। ইসলামী শরীয়তের অন্যতম মাকসাদ হচ্ছে এ রকম আত্মীয়তার সম্পর্ককে হেফাজত করা। দুধ ব্যাংক আত্মীয়তার সম্পকর্কে তালগোল পাকিয়ে দিবে তাই সিদ্ধান্ত হচ্ছে-

(এক) মুসলিম বিশ্বে এ রকম দুধ ব্যাংক তৈরি করা নিষিদ্ধ।

(দুই) দুধ ব্যাংক দ্বারা দুধ সম্পর্ক সাব্যস্ত হবে।

ইসলামি শরীয়াতের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। মিল্কব্যাংক এই পদ্ধতিকে ধ্বংস করবে। বহু অজানা দুধ ভাই বোন হবে। যাদের মধ্যে বিয়ে হারাম। অথচ অজ্ঞাতেই বহু হারাম বিবাহ হওয়ার আশঙ্কা থাকবে যার ফলশ্রুতিতে সমাজে অদৃশ্য জিনা ছড়িয়ে যাবে, জন্ম নেবে জারজ সন্তানেরা।

মূলত তাঁরা ঐক্যমতের ভিত্তিতে হিউম্যান মিল্ক ব্যাংককে হারাম বলেছেন।

১। মিল্ক ব্যাংকে দুধ দান করা
২। মিল্ক ব্যাংক থেকে দুধ পান করানো
৩। মিল্ক ব্যাংক স্থাপন

এই সবকটিই হারাম।

মহান আল্লাহ পাক আল কুরআনে স্পষ্ট করে বলেছেনঃ 'তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে (বিয়ের জন্য) তোমাদের দুধ মাতা, দুধ বোনকে। - সূরা নিসা ২৩।

এছাড়াও এই আয়াত শরীফের ব্যখা হলো ঐ দুদ মাতার মা, খালা, ফুফু ও মেয়ে, মেয়ের মেয়ে, ছেলে, ছেলের মেয়ে সবাই বিবাহের জন্য অটো হারাম হয়ে যাবে।

আর হাদিস শরীফে রাসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রক্তের সম্পর্কের ভিত্তিতে যেসব স্বজনেরা (বিয়ের জন্য) হারাম তদ্রূপ দুধপানের সম্পর্কের ভিত্তিতেও তারা হারাম (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

এর উপরই উম্মতে মুহম্মদির ইজমা প্রতিষ্ঠিত। সুতরাং মিল্কব্যাংক গড়ে তোলার মত অনৈসলামিক, ঈমান বিধ্বংসী কোনও প্রজেক্ট মেনে নেওয়া যায় না।

গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে 'বেসরকারি অনুদানে' এবং ইন্সটিটিউটের নিজস্ব উদ্যোগে এই মিল্ক ব্যাংক গড়ে তোলা হয়েছে। এখন কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বাকি।

সেই 'বেসরকারি অনুদানের' উৎসটা তারা জানায় নি। সেই উৎসটা জানা গেলে আরেকটু খোলাসা হওয়া যেত এই আপাত 'মহৎকর্মের' আড়ালে ইসলামী বিধানের বিরুদ্ধে এতবড়ো পদক্ষেপ ঠিক কাদের সহায়তায় শুরু।

অবশ্যই এর বিরুদ্ধে আমাদের দাঁড়াতে হবে। এর বিরুদ্ধে নিজের ঈমানী তাকিদেই আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। ইসলামি বিধানের এইরকম অপনোদনের শুরু বাংলাদেশে থেকে হতে দেওয়া যায় না।

আমাদের(মুসলমানদের) সবিনয় আর্জি, সরকার যেন অবিলম্বে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করেন। কালবিলম্ব না করেই এটা বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই ধরনের পদক্ষেপ রুখতে আইন প্রণয়ন করতে হবে।

কোন এনজিও এই অর্থায়ন করেছে তাও জাতির কাছে খোলাসা করতে হবে। ইন্সটিটিউট কর্তৃপক্ষকেও 'মহৎ' হওয়ার আড়ালে এই ধরনের হীন কীর্তির জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

পরিশেষে এই সিস্টেম চালু হলে হারাম সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে। কেননা কেউ এখান থেকে দুধ সংগ্রহ করে খাওয়া সত্ত্বেও জানে না যে, কার দুধ খাচ্ছে। পরবর্তীতে বিবাহের সময় হয়তোবা স্বামী-স্ত্রী দুধ ভাই-বোন হতে পারে, অথচ তারা তা জানেও না। এভাবে হাজারো হারাম সম্পর্ক বিস্তার লাভ করবে এর মাধ্যমে, হবে হাজার হাজার জারজ সন্তানের জন্ম, একসময় দেখা যাবে সমাজ ভরা জারজ সন্তানে যা নির্ণয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠবে মুসলিম উম্মাহর জন্য। তাই এখনই এটি বয়কট করা আবশ্যক!

কারন শরিয়তের আলোকে দুধবোনকে বিয়ে করা সম্পূর্ণ হারাম ও নিষেধ। বংশীয় সম্পর্কে সহোদর বোন ও বোনের মেয়েকে বিয়ে করা যেমন হারাম, দুধবোন ও দুধবোনের মেয়েকে বিয়ে করাও তেমনি হারাম। (বুখারি শরীফ, হাদিস ২৬৪৫; বাদায়েউস সানায়েঃ ৪/২)।

এছাড়াও কোনো সন্তান দুই বছর বয়সের মধ্যে কোনো একজন নারীর বা একাধিক নারীর দুধ পান করলে ওই সন্তান ওই নারী বা নারীদের দুধসন্তান হিসেবে গণ্য হয়ে যায়, চাই সন্তান সরাসরি মহিলার স্তন থেকে দুধ পান করুক বা মহিলার স্তন থেকে বের করা দুধ সন্তানকে পান করানো হোক। কিন্তু এর জন্য দুধ অপরিবর্তিত থাকা শর্ত। (বাদায়েউস সানায়েঃ ৪/৯)

মহান আল্লাহ পাক আমাদের কে ইহুদীদের চক্রান্ত থেকে হেফাজত করুন এবং সমাজে হারাম বিয়ের মাধ্যমে জিনার পসার ও জারজ সন্তান হতে হেফাজত করুন। আমিন।


শেয়ার করুন

0 facebook: